ভিন রাজ্য থেকে ফিরতে গিয়ে মাঝপথে আটকে শ্রমিক, প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগ

251

দেবাশিষ দত্ত, পারডুবি: করোনা আটকাতে গোটা দেশেই লকডাউন চলছে। এসময়ে ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে পশ্চিম পারডুবি এলাকার বেশকিছু শ্রমিক আটকে পড়েছে। বাড়ি ফেরার আর্জি জানিয়েও প্রশাসন কোনও সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ। মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের পারডুবি গ্রামপঞ্চায়েতের পশ্চিম পারডুবি, মিস্ত্রিরডাঙ্গা, ভানুরকুঠি সহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭০ জন শ্রমিক পেটের তাগিদে মাসখানেক আগে কাঠমিস্ত্রি হিসেবে শ্রমিকের কাজ করতে যান গৌহাটি এলাকায়।

এরপর দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হয়। আটকে পড়া ওই শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান। কিন্তু খাওয়ার বা বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা সরকারের তরফে নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে শ্রমিকরা। তারা জানায়, ভিন্ন ভিন্ন ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে কাজ করছিলেন তারা। লকডাউনের পর ঠিকাদারদেরও দেখা মেলেনি। হাতে খাবার কেনারও টাকার ছিল না বলে শ্রমিকরা জানান। কাজ নেই তাই টাকাও নেই হাতে। একমুঠো খেয়ে কোনওরকমে জীবন বাঁচিয়ে সাইকেলে চেপেই বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হন শ্রমিকরা।

- Advertisement -

ইতিমধ্যে গত রবিবার রাতে প্রায় তেরো চৌদ্দজন শ্রমিক বাড়ি ফিরছেন। সোমবারও আরও কিছু শ্রমিক গৌহাটি থেকে পশ্চিম পারডুবি এলাকায় বাড়ি ফিরেছেন বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সাইকেলে ফিরে আসা শ্রমিকরা সরকারি সহযোগিতা না পেয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ। স্থানীয়দের একাংশ জানিয়েছেন, এলাকায় ভিন রাজ্য থেকে বেশকিছু শ্রমিক বাড়ি ফিরেছেন। তারা যাতে হোম কোয়ারান্টিন থাকেন এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন নিয়মিত নজরদারি চালান এই দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। তবে প্রশাসনের কোনও তৎপরতা নেই বলেই অভিযোগ।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা ঝর্ণা বিশ্বাস জানান, ‘এলাকায় যেসকল শ্রমিকরা ভিন রাজ্য থেকে ফিরছেন তাদের বাড়ি গিয়ে হোম কোয়ারান্টিন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলে এসেছি। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে শ্রমিকরা যাতে সাহায্য পায় সেবিষয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’

অন্যদিকে, এদিন গৌহাটি থেকে পশ্চিম পারডুবি এলাকার অপর একটি দলের প্রায় ১৮ জন শ্রমিক সাইকেলে চেপে বাড়ি ফেরার পথে ধুবড়ি জেলার বিলাসিপাড়া এলাকায় আটকে পড়ে চেকিং পয়েন্টে। আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে লক্ষণ সরকার, অমিত কীর্তনীয়া, বিষ্ণু মন্ডল নিতাই সরকার প্রমুখরা জানান আধপেটা খেয়ে ঘরবন্দি থেকে খুব কষ্টে দিন কাটছিল গৌহাটিতে। তাই বাধ্য হয়ে সাইকেলে চেপে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হই। বিভিন্ন স্থানে চেকিং ও থার্মাল স্কিনিং ও করা হয় প্রশাসনের তরফে, প্রায় ২৫০ কিমি পথ চলে আসি আমরা। ধুবড়ি জেলার বালাসিপাড়া এলাকায় চেকিং পয়েন্টে চেকিং করে প্রথমে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও, পরে কিছুটা দুরে গেলেই ফের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর জওয়ানরা তাদের আটকায়।

প্রশাসনের তরফে আটকে দিলে বিপাকে পড়ে পথের ধারেই বসে রয়েছেন শ্রমিকরা। সিদ্ধেশ্বর রায়, নিতাই সরকার, ভজন সরকার নামের শ্রমিকরা জানান দুদিন থেকে না খেয়ে থাকলেও এখনও খাবার জোটেনি। পুলিশ প্রশাসনের তরফে খাওয়া ও থাকার ব্যবস্থা করছে না বলে অভিযোগ। শ্রমিকরা জানান, ‘আমরা বলেছি, থানায় বা কোথাও নিয়ে যান আমাদের। উল্টে তাড়া খেয়ে ভয়ে রাস্তার ধারেই বসে বিশ্রাম নিচ্ছি।’ ধুবড়ির বিলাসিপাড়া এলাকায় আটকে থাকা শ্রমিকরা টেলিফোনে জানান প্রশাসনের তরফে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পথের মধ্যেই না খেয়েই মরতে হবে। রাতদিন সাইকেল চালাতে চালাতে শরীর ব্যাথা হয়ে গিয়েছে।

মাথাভাঙ্গা মহকুমা প্রশাসন সূত্রের খবর, যেসকল শ্রমিকরা ভিনরাজ্য থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছেন তাদের খোজ খবর নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রাথমিকভাবে তাদের হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে মাথাভাঙ্গা-২ ব্লকের বিডিও রজতরঞ্জন দাস বলেন, ‘দেখছি। আমরা কথা বলে নিচ্ছি।’ এই বলেই তড়িঘড়ি নিজেই ফোন কেটে দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এবিষয়ে মাথাভাঙ্গা-২ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ঘোকসাডাঙ্গা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র) সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।’ বাকি এলাকাতেও খুব শীঘ্রই স্বাস্থ্যকর্মীরা গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে।