দেশে ফিরতে চান ভুটানে আটকে পড়া শ্রমিকরা

204

মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা: কাজ করতে গিয়ে লকডাউনের জেরে ভুটানে আটকে পড়েছেন আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলার অনেকেই। কেউ থিম্পু, কেউ আবার ওয়াংডিতেও রয়েছেন।

লকডাউন শুরু হওয়ার দেড় মাস অতিক্রান্ত হওয়ায় হাঁপিয়ে উঠেছেন তাঁরাও। শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সংবাদের প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের অনুরোধ, জেলাপ্রশাসন তাঁদের যেভাবেই হোক দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুক।

- Advertisement -

আলিপুরদুয়ার জেলার ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁও, খগেনহাট, মাদারিহাট, খয়েরবাড়ি, শিশুবাড়ি সহ কোচবিহার জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কাজে গিয়ে আটকে পড়েছেন ভুটানের ওয়াংডিতে।

ফালাকাটা ব্লকের দেওগাঁওয়ের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ভুটানের ওয়াংডিতে ঠিকাদারের কাজ করতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাজ শেষ হয়েছে ৩১ মার্চ। পাঁচ সপ্তাহ ধরে আটকে আছি। অথচ, বাড়ি ফিরতে পারছি না।’

তাঁর সঙ্গে আটকে রয়েছেন রবিউল হক, রবিউল আলম, আশরাফুল হক, খগেনহাটের আলিয়ার রহমান সহ অনেকেই। ওয়াংডিতেই আটকে রয়েছেন কোচবিহারের মাথাভাঙার তপন বর্মন সহ আরও বেশ কয়েকজন।

গতকাল ভুটানের থিম্পু থেকে ফালাকাটার দেওগাঁওয়ের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। সবজি বাজারে যাওয়া যাচ্ছে না। রাস্তায় পুলিশ আটকাচ্ছে।’ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ওই এলাকার নাসিরুদ্দিন মিয়াঁ, জিয়ারুল হক, মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকের শিশুবাড়ির বাসিন্দা আফরোজ আলির মতো অনেকেই। তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের ফেরাতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে শুনছি। কিন্তু আমরা বাড়ি ফিরব কীভাবে?’

প্রসঙ্গত, আলিপুরদুয়ার জেলা সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বহু মানুষ ভুটানে শ্রমিকের কাজ করতে যান। ভুটানের পারো, ওয়াংডি, থিম্পুতে যান অনেক ঠিকাদারও। লকডাউন শুরু হওয়ায় ঘোর বিপাকে পড়ে গিয়েছেন তাঁরা। মাদারিহাটের দক্ষিণ খয়েরবাড়ির নজরুল ইসলাম, অর্জুন সূত্রধর, আনোয়ার হোসেনের মতো অনেকেই আটকে রয়েছেন ভুটানে‌।

এই বিষয়ে খয়েরবাড়ি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য জবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ভুটানে আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের লোকজন খুবই সমস্যায় পড়েছেন। আমরা তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।’

এই প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা বলেন, ‘ভুটানে আটকে পড়া ভারতীয়রা ফুন্টশোলিংয়ে কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।’