৮০০ টাকায় ২৪ বছর ধরে কাজ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসালয়ে

271

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : ২৪ বছর ধরে সরকারি কাজ। মাইনে কত হতে পারে? যাঁরা রকারি চাকরি করেন, তাঁদের একবার জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। বেশ পরিষ্কার একটা ধারণা পেয়ে যাবেন। কোচবিহার-১ ব্লকের অন্তর্গত চিলকিরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোগডাবরি কেশরিবাড়ি হোমিওপ্যাথিক দাতব্য চিকিৎসালয়ে কম্পাউন্ডার কাম ড্রেসার পদে কর্মরত অবনীকুমার রায় কত টাকা মাইনে পান বলুন তো? ৮০০ টাকা। বিশ্বাস হচ্ছে না? এলাকার যে কাউকে একবার জিজ্ঞাসা করে দেখতে পারেন। এই চিকিৎসালয়ে কোনও স্থায়ী চিকিৎসক নেই। তাই অবনীবাবু পাঁচ বছর ধরে সেই দায়িত্বও পালন করে চলেছেন। এজন্য অবশ্য ৮০০ টাকার বেশি একটি টাকাও পান না। আশ্চর্যের বিষয় বলতে, সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তর বিষয়টি জানে। কিন্তু তা সত্ত্বেও সমস্যা মেটাতে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। প্রচুর মন খারাপ সত্ত্বেও অবনীবাবু কিন্তু কোনওদিন তাঁর কাজে না করেননি। আজকাল করোনা পরিস্থিতিতেও বুক চিতিয়ে রোগীদের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পাটছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা অবনীকুমার রায় ১৯৯৮ সাল থেকে কম্পাউন্ডার কাম ড্রেসার হিসাবে ভোগডাবরি কেশরিবাড়ি হোমিওপ্যাথিক দাতব্য চিকিৎসালয়ে কাজ করে চলেছেন। ২৪ বছর ধরে কাজ করার পরও প্রশাসনের তরফে তাঁকে স্থায়ীকরণ করা তো দূর, তাঁর ন্যূনতম মাইনের ব্যবস্থাটুকু করা হয়নি বলে অভিযোগ। আজকাল ৮০০ টাকায় কোনও কাজ হয়? মাইনের ৮০০ টাকার বেশির ভাগটাই স্রেফ চিকিৎসালয়ে যাতায়াতেই খরচ হয়ে যায়। বাড়িতে রোগীদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করে যেটুকু আয় হয় তা দিয়ে তাঁর সংসার কোনও মতে চলে। অবনীবাবু বলছেন, একই কাজে নিযুক্ত আমার সমসাময়িকদের অনেকেই আজ সম্মানজনক মাইনে পান। অথচ আমার ক্ষেত্রে কেন অন্যথা হল তা কিছুতেই বোধগম্য নয়। স্থাযীকরণের পাশাপাশি সম্মানজনক মাইনের জন্য বহুবার গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কোচবিহার জেলা পরিষদে আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু কোনও কিছুতেই আমার অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তে আমার দায়িত্ব আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।

- Advertisement -

চিলকিরহাট গ্রাম পঞ্চায়েত ১৯৯৮ সালের মার্চ মাসে অবনীবাবুকে এই কাজের নিয়োগপত্র দেয়। প্রথম থেকেই তিনি যৎসামান্য মাইনে পেয়ে আসছেন। কোচবিহার জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ শুচিস্মিতা দেবশর্মা বলেন, বর্তমানে পরিষদের অধীনে কোচবিহারে এই পদে ছয়জন নিযুক্ত রয়েছেন। তাঁরা আট হাজার টাকা মাইনে পান। ২০০৭ সালের পর থেকে এই পদে অবশ্য নতুন করে কাউকে নিয়োগ করা হয়নি। অবনীবাবুর বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়ে শুচিস্মিতা বলেন, চিলকিরহাট গ্রাম পঞ্চায়েত হয়তো ওঁকে স্থানীয়ভাবে নিয়োগ করেছিল। চিলকিরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে অবনীবাবুকে দেওয়া নিয়োগপত্রে অবশ্য জেলা পরিষদের অনুমোদনের কথা রয়েছে। চিলকিরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীনবালা রায়ের স্বামী তথা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুবল রায় বলেন, অবনীবাবুর মাইনের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পদক্ষেপ করা হবে।