সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ, জানাল হু

201

জেনেভা: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। তার মাঝেই আরও এক আশঙ্কার কথা শোনাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সোমবার হু জানিয়েছে, দীর্ঘসময় কাজ করার কারণে মৃত্যু বাড়ছে। তাই যাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত তাঁদের এবিষয়ে নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংস্থার আধিকারিকরা।

হু’র তরফে জানানো হয়েছে, সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। এর জেরে প্রতিবছর কয়েক হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে ৷ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সেই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ডব্লিউএইচও-র।

- Advertisement -

একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করা মানুষের সংখ্যা বর্তমানে ৯ শতাংশ বেড়েছে। এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত কাজের ফলে স্ট্রোক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৬ সালে মারা গিয়েছেন ৭ লক্ষ ৪৫ হাজার জন। ২০০০ সালের তুলনায় যা ৩০ শতাংশ বেশি। হু এবং ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের যৌথ সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত সময় কাজের ফলে ২০১৬ সালে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের ৭২ শতাংশ পুরুষ এবং তাঁরা মধ্যবয়স্ক বা তার কিছু বেশি বয়সি। মৃতদের একটা বিরাট অংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাসিন্দা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ডিরেক্টর মারিয়া নেইরা বলেন, ‘সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাজ করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ। সেকারণে আমরা চাই, সংস্থাগুলি কর্মীদের স্বাস্থ্য়ের ওপরও নজর রাখুক।’

ডব্লিউএইচও-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুসের বক্তব্য, করোনার জেরে মানুষের কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে। বাড়ি ও কর্মস্থলের মধ্যে বিশেষ কোনও পার্থক্য থাকছে না। অনেকেই ওয়ার্ক ফ্রম করছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কাজ কখনওই জীবনের থেকে বেশি মূল্যবান নয়। সেকারণে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর সংস্থাগুলিকে নজর দিতে হবে।