আপনা হাত জগন্নাথ, ভোটে কিছু এসে যায় না আরতিবালাদের

78

বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি : রাতে ঘুমিয়ে যেন স্বস্তি নেই। জীবনে আর আছেটাই বা কী? ভোরের আলো ফুটলেই শুরু জীবনযুদ্ধের প্রতিযোগিতা, থুড়ি অস্তিত্বরক্ষার লড়াই। তাতে শরীর-মন সায় না দিলেও এগিয়ে যেতে হবে। গৃহস্থালির সব কাজ সেরে তারপর রোজগারের টানে বেরিয়ে পড়া। শহর থেকে গ্রাম, একশ্রেণির মহিলাদের এটাই নিত্যদিনের জীবন। জীবনে রয়েছে হাজারটা সমস্যা। ভোট এল, কী গেল, তাতে তাঁদের বাড়তি আগ্রহ নেই। তবে অনেকেই সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। তাই তাঁদের আবদার, ভোট পেরিয়ে গেলে পাড়ার মোড়ে ফের যেন দুয়ারে সরকার কর্মসূচি হয়।

পুরসভার নোটিফিকেশন জারি হয়েছে ময়নাগুড়িতে। শহরের বেশ কয়েকটি এলাকা পুর এলাকার বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম শহরের ব্যাংকান্দি, যেখানে বিস্তীর্ণ আবাদি জমি। ব্যাংকান্দির মহিলারা দিনমজুরের কাজের ফাঁকে মজেছেন জীবন ভাবনায়। সাকালি রায় বলেন, ভোটের ভালো-মন্দে আমাদের কিছু আসে যায় না। স্বামীর বয়স হয়েছে। দিনমজুরের কাজ করছি। কাজ করে দিনে রোজগার ২৫০ টাকা। তাতেই সংসার চালিয়ে নিতে হয়।

- Advertisement -

স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের জন্য আবেদন করেও এখনও কার্ড পাননি আরতিবালা দাস। তাঁর স্বামী বংশী দাস কৃষিকাজ করেন। ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র। একই অবস্থা জ্যোৎস্না রায়েরও। ভোটের কথায় জ্যোৎস্না বললেন, ঘরে-বাইরে কাজ করে দম ফেলার সুযোগ নেই। ভোটের চাইতে আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ আর দুবেলা খাবারের সংস্থান। বরং ভোটের পরে পাড়ায় দুয়ারে সরকার কর্মসূচি হোক।

এদিকে সরস্বতী রায়, রুমা দাসের জব কার্ড নেই। তাঁরা দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে নাম রেজিস্ট্রেশন করেছেন বটে, কিন্তু কার্ড হাতে পাননি। পরবর্তীতে সুফল মিলবে কি না তা নিয়ে তাঁরা ধোঁয়াশায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কাজে বেরোনো ছাড়া উপায় নেই। আগে তো ভাত জোগাড় করতে হবে! স্বভাবতই রাজনীতি এবং ভোট তাঁদের কাছে ব্রাত্য। যদিও ময়নাগুড়ি-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহকারী সভাপতি গোবিন্দ পাল জানান, যাঁরা কার্ড পাননি তাঁরা পাবেন এবং পরবর্তীতে অবশ্যই বিভিন্ন পরিষেবা পাবেন।

অন্যদিকে, ভোটের কথায় বেশ আক্ষেপ শোনা গেল প্রতিমা দাসের গলায়। তিনি বললেন, আমাদের দিন এভাবেই ফুরিয়ে যায়। ভোট আসে, ভোট যায়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কোনও পরিবর্তন আসে না। তাই এখন আর ভোটে আগ্রহ নেই। এখনও জমিতে এবং গুদামঘরে আলু আছে। সহজেই কাজ পাচ্ছি। এরপর সেটাও পাব না। সবার জব কার্ডও নেই।

ময়নাগুড়ি-১ ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহকারী সভাপতি গোবিন্দ পাল জানান, ময়নাগুড়িতে ৮৪টি দুয়ারে সরকার কর্মসূচি হয়েছে। মোট রেজিস্ট্রেশন হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার। ইতিমধ্যে অনেকে বিভিন্ন কাগজপত্র হাতে পেয়ে গিয়েছেন।