সানি সরকার, শিলিগুড়ি : গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে নজর দিলেও, কাজের মাপকাঠি নির্ধারণ করেই অর্থ বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তাই রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার মানোন্নয়ন খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে সমীক্ষা চালাচ্ছে সংস্থাটি। একইসঙ্গে দেখা হচ্ছে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাতিষ্ঠানিক সশক্তিকরণ কর্মসূচি-২ (আইএসজিপিপি)-র ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয়তা। এর জন্য রাজ্যের ১২টি জেলার ২৮টি গ্রাম পঞ্চায়েকে বেছে নেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের লোয়ার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েত সহ এই তালিকায় রয়েছে উত্তরবঙ্গের ৭টি জেলার ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত। বিশ্বব্যাংকের এই তত্পরতায় কাজের ক্ষেত্রে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে বলে মনে করছেন শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকার। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেকেরই অভিজ্ঞতা থাকে না। কিন্তু আইএসজিপিপি থাকায় কাজের ক্ষেত্রে তেমন সমস্যা ধরা পড়ে না। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে কাজের ক্ষেত্রে যেমন গতি বাড়বে, তেমনই দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব হবে।

গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির পারফরমেন্স যাচাই করে নিতে চাইছে বিশ্বব্যাংক। গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে কোথায় কী ধরনের কাজ হয়েছে এবং তাতে মানুষের অংশগ্রহণ কতটা তা যাচাই করতে রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা শুরু করেছে বিশ্বব্যাংক। একটি সংস্থাকে দিয়ে এই সমীক্ষা করানো হচ্ছে। রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা, গ্রামীণ এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের মতো কয়েকটি উন্নয়নের ক্ষেত্রে কতটা দাযিত্বশীল গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি মূলত সেদিকেই নজর রাখা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে পাঁচবছরের জন্য পরিকল্পনা মোতাবেক অর্থ বরাদ্দ করে বিশ্বব্যাংক। এর জন্য গঠন করা হয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাতিষ্ঠানিক সশক্তিকরণ কর্মসূচি-২ (আইএসজিপিপি)। উন্নয়নের জন্য গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে পরিকল্পনাবিষয়ক, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ইঞ্জিনিয়ারিং সাপোর্ট এবং তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে সাহায্যের জন্যই গঠন করা হয় আইএসজিপিপি। ফলে গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে আইএসজিপিপির ভূমিকা যথেষ্ট। তাই আড়াই বছরের মাথায় সমীক্ষা (মিড টার্ম রিভিউ)-এর ক্ষেত্রে খতিয়ে দেখা হচ্ছে আইএসজিপিপির ভূমিকা এবং এর প্রয়োজনীয়তা। একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাদ্দ অর্থের ক্ষেত্রে কোন গ্রাম পঞ্চায়েত কতটা কাজ করেছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য দিতে হয় একটি পোর্টালে যাতে সেখানকার মানুষ কাজ সম্পর্কে অবহিত থাকতে পারেন। কিন্তু অনেক গ্রাম পঞ্চায়েতই তা করে না। এই অভিযোগ পাওয়ায় বিশ্বব্যাংকের তরফে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিকে। নতুন অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলি নজরে রাখা হবে তা জানিয়ে দেওযা হয়েে।

শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের আইএসজিপিপির পিপিজিসি (পার্টিসিপেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড গভর্নেন্স কোঅর্ডিনেটর) সুহাস ঘোষের বক্তব্য, গ্রামীণ উন্নয়নে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে যাতে কাজগুলি করা সম্ভব হয় তার জন্য সবরকম সাহায্য করা হয়। কোথায় কী খামতি রয়েছে, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। মহকুমা পরিষদের অতিরিক্ত কার্যনির্বাহী আধিকারিক প্রেমকুমার বরদেওয়া বলেন, কাজ শুরু থেকে শেষ, নানা পর্যায়ে ছবি তুলতে হয় এখন। পাশাপাশি দিতে হয় বিভিন্ন তথ্য। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। ফলে বিশ্বব্যাংকের এই উদ্যোগ কাজের গতিবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।