হামলা ঠেকাতে ‘মহাকাল’ পুজো কলাবাড়িয়ায়

311

শালকুমারহাট: লাগাতার হাতির হানায় ঘুম ছুটেছে গ্রামবাসীর। বন দপ্তর শত চেষ্টাও করেও হাতির হানা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ। বাধ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থাৎ হাতি তাড়াতে ‘মহাকাল’ পুজো করলেন গ্রামবাসীরা। রবিবার আলিপুরদুয়ারের শালকুমারহাটের কলাবাড়িয়া এলাকার ঘটনা।

বন দপ্তর সূত্রে খবর, বিছনবাড়ি ফরেস্টে স্থায়ীভাবে বুনো হাতি থাকে না। কিন্তু এবার প্রায় এক মাস আগে শিসামারার গভীর জঙ্গল থেকে প্রায় ৩০ টি হাতির দল বিছনবাড়িতে চলে আসে। ওই দলে ৫-৬টি শাবক হাতিও রয়েছে। এরফলে পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও লাগাতার হাতির হানায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বনবস্তির রাভারাও আতঙ্কে ছিলেন। এদিকে হাতির হানা রুখতে কালঘাম ছুটছে বনকর্মীদের। তাঁদের রাতভর জঙ্গল পাহারা দিতে হয়। যৌথ বন পরিচালন সমিতি থেকেও বন পাহারার জন্য স্থানীয় যুবকদের নিয়ে কয়েকটি দল তৈরি করা হয়। তা সত্ত্বেও কোনও না কোনও ভাবে হাতি লোকালয়ে বেরিয়ে আসে। এরফলে এলাকার বহু বাসিন্দার বাড়ি ভেঙেছে হাতির দল। কলা বাগান ও সুপারি বাগানের ক্ষতি হয়েছে। জমির ফসলও নষ্ট হয়েছে। বন দপ্তরের তরফে ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণের ফর্ম দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও গ্রামবাসীরা হাতির হামলা ঠেকাতে এদিন ‘মহাকাল’ পুজো করেন।

- Advertisement -

পুজোর আয়োজকদের তরফে জ্যোৎস্না দাস বলেন, ‘এক মাস ধরে হাতির হানায় গোটা গ্রাম আতঙ্কে রয়েছে। রাতে ঘুমোনো যাচ্ছে না। অনেকের ঘরবাড়ি,জমির ফসল ক্ষতি হচ্ছে। এই জঙ্গলে তো স্থায়ীভাবে হাতি থাকে না। কিন্তু এবার যেন হাতির দল এখান থেকে যেতেই চাইছে না। ওই হাতিদের সন্তুষ্ট করতেই এদিন ‘মহাকাল’ বাবার পুজো করা হয়। আমাদের বিশ্বাস,পুজো করলেই হাতিরা গভীর জঙ্গলে চলে যাবে।’

আরেক এক গ্রামবাসী বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘এবারের মত আগে কখনও হয়নি। আগে গভীর জঙ্গল থেকে হাতি আসলে এখানে দু-একদিন থেকেই চলে যেত। কিন্তু এবার বনকর্মীরা অনেক চেষ্টা করেও হাতি তাড়াতে পারছেন না। এই হাতির হানা আটকাতেই গ্রামের মানুষ এদিন মহাকাল পুজো করেন।’

বন দপ্তর জানিয়েছে, এখন আর আতঙ্কের ব্যাপার নেই। কারণ, ওই হাতির দলের অধিকাংশ হাতি দু-একদিন আগে বিছনবাড়ি জঙ্গল ছেড়ে চলে গিয়েছে। শালকুমারহাটের বিট অফিসার সুজিত সরকার বলেন, ‘আমরা রাতের পর রাত জেগে পাহারা দিয়েছি। সেজন্যই বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বর্তমানে সম্ভবত দুটি হাতি রয়েছে। তাই ভয়ের ব্যাপার নেই।’