শিলিগুড়ি, ১৪ ফেব্রুয়ারিঃ ঘরের মেঝে থেকে দেওয়াল, পুরোটাই প্রায় স্যাঁতসেতে। দেওয়ালের বেশীর ভাগ অংশেরই পলেস্তারা খসে গিয়ে সে এক বিশ্রি অবস্থা। বিছানার অবস্থা আরও খারাপ। নামি কোম্পানীর গদি শেষ কত বছর আগে কেনা হয়েছিল তা বোধহয় মনে করতে পারবেন না শিলিগুড়ি পুরনিগমের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তারা। বিছানার সাদা চাদরের অবস্থা এমনই যে করুণ, যে সেখানে শুতে দ্বিধা বোধ করেন অনেকে। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ি পুরনিগমের অধিনে থাকা পান্থ নিবাস নিয়ে বিস্তর অভিযোগ সাধারনের।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের উল্টো দিকেই এই পান্থনিবাস। দুরদুরান্ত থেকে যারা শিলিগুড়ি শহরে একটু কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন তাঁদের জন্য একেবারের শহরের বুকে এত ভালো জায়গা বোধ হয় আর নেই। পান্থনিবাসে মোট ১২টি ঘর থাকলেও দুটি ঘরের অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে রয়েছে যে তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত। সেই কারনে এখন ১০টি ঘরেরই বুকিং হয় প্রতি ঘর দৈনিক ৪০০ টাকা ভাড়া হিসেবে। শিলিগুড়ি শহরে এখন যেকোন মাঝারি আকারের হোটেল ভাড়া নিতে গেলে খরচ করতে হয় ১২০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা প্রতিদিনের হিসেবে। সেখানে এখনও পান্থনিবাসে এত কম টাকায় ভাড়া মেলায় প্রায় প্রতিদিনই পান্থনিবাসের ঘর বুকিং থাকে। কারন এত কম ভাড়ায় শিলিগুড়ি শহরে এই পরিসেবা তেমন পাওয়া যায না বললেই চলে। কিন্তু শিলিগুড়ি পুরনিগমের অধিনে থাকা এই পান্থনিবাস আটের দশকে স্বপন সরকার যখন তৎকালীন শিলিগুড়ি পুরসভার চেযারম্যান ছিলেন সেই সময উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে আর সেভাবে মেরামত হয়নি বললেই চলে। প্রতিটি ঘরই এতটাই স্যাঁতসেতে যে সেখানে থাকা প্রায় অসম্ভব। আগে বাতানুকুল ঘর থাকলেও এখন আর সেসব নেই। ঘরে প্রবেশ করলে দেখা যাবে, ঘরের দেওযাল, মেঝেতে পলেস্তরা খসে গিয়েছে। শৌচালয়ের অবস্থাও করুন। ঘরের খাট গুলি সব পুরানো আমলের। কিছু খাটের মশারী স্ট্যান্ড ভেঙে পরে রয়েছে বহুদিন থেকেই।  কয়েকটি ঘরের ভেতরে থাকা সোফায় স্প্রিং ছাড়া আর কিছু নেই তেমন। হঠাৎ করে কেউ বসতে গেলে আঘাত পাবেনই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি শিলিগুড়ি পুরনিগম। অথচ শিলিগুড়ি পুরভবনের একেবারে উল্টো দিকেই এই পান্থ নিবাস। শহরের উন্নয়নে নিজস্ব ফান্ড থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করার পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয সরকারও বিভিন্ন খাতে কোটি কোটি টাকা দেয় পুরনিগমকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে এভাবেই রয়ে গিয়েছে পান্থনিবাস।

শিলিগুড়ি পুরনিগমের পান্থনিবাস, কোলকাতার অতিথি নিবাসের দায়িত্বে থাকা মেয়র পারিষদ কমল আগরওয়াল বলেন, ‘এটা ঠিকই যে পান্থনিবাসের অবস্থা খুবই খারাপ। বহু ঘর ব্যাবহারের অনুপযুক্ত। তবে আমরা খুব শীঘ্রই পান্থনিবাসের পরিকাঠামো উন্নযনের কাজ শুরু করব।’