বর্ষা এলেই রাস্তা উধাও বলরামপুর-খনিবাথানে

174

পুরাতন মালদা : পুরাতন মালদার মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুর থেকে খনিবাথান, এই দুই গ্রামের দূরত্ব প্রায় কিলোমিটার দুয়েক। গ্রাম থাকলেও, গ্রামের মধ্যে সংযোগকারী রাস্তা নেই বললেই চলে। গুরুত্বের বিচারে রাস্তা অত্যন্ত জরুরি হলেও অভিযোগ, রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে আজ পর্যন্ত রাস্তা তৈরিই হয়নি। যার ফল ভুগতে হচ্ছে ওই এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল পরিচালিত মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েতের বলরামপুরে মহানন্দা নদীর পিরগঞ্জ ঘাট থেকে একটি রাস্তা সরাসরি চলে গিয়েছে খনিবাথানের দিকে। ওই রাস্তা একলাখি স্টেশনের সঙ্গে সংযোগকারী রাস্তার সঙ্গে মিশেছে। প্রয়োজনের বিচারে এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা শুধু বলরামপুর ও খনিবাথানের মধ্যে সংযোগকারী রাস্তাই নয়, বরং পাশের ব্লক গাজোলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমও বটে। যদিও রাস্তা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। লালমাটির রাস্তা ভেঙে বেহাল। ২০১৭ সালের বন্যায় রাস্তার অনেকটাই ভেঙে গিয়েছিল। তারপর থেকে রাস্তার হাল আর ফেরেনি বলেই অভিযোগ। পুরো রাস্তাই কাদায় ডুবে থাকে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে হামেশাই দুর্ঘটনা ঘটছে। বাইক, অটো, টোটো তো দূরের কথা, হেঁটে পথ পেরোনোই দায়।

- Advertisement -

এলাকার বাসিন্দা প্রিয়দেব সাহা বলেন, ‘রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার অবস্থা এরকম থাকলেও তা সারানো হচ্ছে না।’ গঙ্গা মণ্ডল নামে অপর এক বাসিন্দা বলেন, ‘যদি পাড়ার কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে তাঁকে চিকিৎসার জন্য কোথাও নিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হয়। ঘাড়ে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।’ রাস্তার এমন বেহাল দশার জন্য সংকীর্ণ রাজনীতিকে দায়ী করেছেন এলাকার কংগ্রেস নেতা আসিরুদ্দিন শেখ। তাঁর অভিযোগ, ‘ওই এলাকাটিতে কংগ্রেসের প্রাধান্য থাকায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত রাস্তাটি সারাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘রাস্তাটি তৈরি ও মেরামতের জন্য এর আগে বহুবার টেন্ডার ডাকা হয়েছে। মাপজোখ হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস অধ্যুষিত এলাকা বলে কাজ করা হয়নি। গায়ের জোরে পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল এখন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে।’

যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে মহিষবাথানি গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। পঞ্চায়েত প্রধান রোজিনা বিবি বলেন, ‘কিছুদিন আগেই ওই রাস্তা মোরাম ফেলে ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাস্তার পাশে নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় সব জল পথের ওপরেই জমে থাকে। নিকাশির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা দিতে রাজি হচ্ছেন না অনেক বাসিন্দা। তাই জল জমে বারবার রাস্তা বেহাল হয়ে পড়ছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ ভিত্তিহীন।’ তবে রাস্তার হাল কবে ফিরবে, তা নিয়ে বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে পারেনি পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। অগত্যা রাস্তার যন্ত্রণা নিয়ে দিন গুজরান করতে বাধ্য হচ্ছেন দুই গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।

তথ্য-রাজশ্রী প্রসাদ