সুশীলকে সাসপেন্ড করল উত্তর রেল

নয়াদিল্লি : খুনের মামলায় অভিযুক্ত তারকা কুস্তিগির সুশীল কুমারকে সাসপেন্ড করল উত্তর রেল। তিনি রেলের সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর পদ্মশ্রী সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

কুস্তিগির সাগর ধনখড়কে খুনের অভিযোগে রবিবার সুশীলকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তাঁকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৬ দিনের জন্য পুলিশ হেপাজতে পাঠান। গ্রেপ্তার হওয়ার পরই তাঁকে রেল সাসপেন্ড করবে বলে জল্পনা শুরু হয়। মঙ্গলবার সকালে বিবৃতি দিয়ে রেল তা নিশ্চিত করে। রেলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুশীল কুমার ২৩ মে থেকে ৪৮ ঘণ্টারও বেশি পুলিশ হেপাজতে রয়েছেন। তাই প্রতিষ্ঠানের ডিসিপ্লিন অ্যান্ড অ্যাপিল রুলস, ১৯৬৮ মেনে তাঁকে সাসপেন্ড করা হল। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় থেকে এই সাসপেনশন শুরু হবে। পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তিনি সাসপেন্ড থাকবেন।

- Advertisement -

রেলের আধিকারিক হলেও ডেপুটেশনে দিল্লি সরকারের ওএসডি হিসেবে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিযুক্ত ছিলেন সুশীল। এই স্টেডিয়ামের পার্কিংয়ে সাগরকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠছে সুশীল ও তাঁর সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, এদিন পুলিশের একটি দল তাঁকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে তদন্তে আসেন। ওই দলটি সুশীলকে নিয়ে তাঁর মডেল টাউনের বাড়িতেও যায়। অন্যদিকে, সুশীলের সঙ্গে অপরাধ জগতের যোগ আছে কি না, কোনও গ্যাংস্টার তাঁকে ১৭ দিন গাঁ ঢাকা দিতে সাহায্য করেছে কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। খুনের তদন্তে ফরেন্সিকের সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, খুনের মামলায় নাম জড়ানোয় সুশীলের পদ্মশ্রী সম্মান কেড়ে নেওয়া হতে পারে। ২০০৮ অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ এবং ২০১০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে প্রচারের আলোয় আসেন তিনি। এরপরই ২০১১ সালে পদ্মশ্রী পান। স্বরাষ্ট্র দপ্তর সূত্রে খবর, ভারতে সমস্ত রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া বা ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি শেষ কথা বলেন। কারও সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার অর্থ তাঁর থেকে এই সংক্রান্ত সমস্ত পদক ও নথি ফিরিয়ে নেওয়া। এমনকি সমস্ত সরকারি নথি থেকেও তাঁর সম্মান পাওয়ার প্রমাণ মুছে দেওয়া হয়। আবার রাষ্ট্রপতি চাইলে সেই সম্মান ফিরিয়ে দিতে পারেন।

তবে আপাতত এই বিষয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সূত্রের খবর, এই মামলায় আদালত পদক্ষেপ করার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাই চার্জশিট জমা পড়ার আগে মন্ত্রকের তরফে রাষ্ট্রপতিকে কিছু সুপারিশ করার সম্ভাবনা কম। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র সচিব এন গোপালস্বামীর কথায়, তদন্তকারীরা চার্জশিট জমা দেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদ্মশ্রী কেড়ে নিতেও পারেন। পরবর্তীতে সুশীল নির্দোষ প্রমাণিত হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে।