বায়ো বাবলের ফাঁক নিয়ে প্রশ্ন ঋদ্ধির

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : করোনা হানায় স্থগিত হয়ে গিয়েছে চতুর্দশ আইপিএল। বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে তিনিও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। সোমবার মুম্বই উড়ে যাচ্ছেন। টিম ইন্ডিয়ার মিশন ইংল্যান্ডের বায়ো বাবলে ঢুকে পড়বেন ঋদ্ধিমান সাহা। তার আগে ভারতীয় দলের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান আজ আইপিএলের বায়ো বাবলের ফাঁক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু তাই নয়, ২০২০ সালে দুবাইয়ে আইপিএলের সময় জৈব সুরক্ষা বলয় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল। তাই কোনও সমস্যা হয়নি। ভারতের মাটিতে চলতি বছরে আইপিএলের সময় সেই ছবি দেখা যায়নি। জৈব সুরক্ষা বলয়ে ফাঁক ছিল। মাঠে অনুশীলনের সময় লোকও ঢুকে পড়ত। মাঠের ধারের পাঁচিল থেকেও (ইঙ্গিত দিল্লির রোশেনারা ক্রিকেট মাঠের দিকে) অনেক সময় ক্রিকেটপ্রেমীদের চিৎকার শোনা গিয়েছে।

- Advertisement -

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আইপিএলে অংশ নেওয়া ঋদ্ধির এমন মন্তব্যে হইচই পড়েছে ভারতীয় ক্রিকেটে। জাতীয় দলে থাকা কোনও ক্রিকেটার এই প্রথম আইপিএলের বায়ো বাবল নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। ঋদ্ধির কথায়, জৈব সুরক্ষা বলয় থেকে শুরু করে বাকি সবদিক দেখভালের দায়িত্ব যাঁদের, তাঁরাই এব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু বলতে পারি, ২০২০ সালের শেষ আইপিএলের বায়ো বাবলের সঙ্গে এবারের পরিস্থিতি এক ছিল না। কিন্তু কেন এমন অবস্থা হয়েছিল স্থগিত হয়ে যাওয়া আইপিএলে? স্পষ্টভাবে ঋদ্ধি কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু তিনি স্বীকার করেছেন, ২০২০ সালের দুবাইয়ের তুলনায় এবারের আইপিএল বায়ো বাবলে ফাঁক ছিল। কাঠিন্যের ব্যাপারটা হারিয়ে গিয়েছিল। পাপালির কথায়, কেন এমন অবস্থা হয়েছিল, জানা নেই আমার। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, শেষবারের মতো এবারের আইপিএলও ইউএইতে হলে ভালো হত। ওখানকার জৈব সুরক্ষা বলয় অনেক কঠিন ছিল। আমাদের দেশে আইপিএলের সময় জৈব সুরক্ষা বলয়ে সেই কাঠিন্য ছিল না।

ঋদ্ধির বয়স এখন ৩৬। আইপিএল হোক বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, তাঁর জন্য খুব বেশি সময় আর নেই। এখনই অবশ্য অবসর নিয়ে ভাবছেন না তিনি। বরং তাঁর মনে ইংল্যান্ড সফর নিয়ে ভাবনা শুরু হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি পাপালির মতে, স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর আইপিএলের বাকি ৩১ ম্যাচ আয়োজন আর সম্ভব নয়। আর একান্তই স্থগিত আইপিএল শুরু হলে কতজন বিদেশি ক্রিকেটার অংশ নিতে পারবেন প্রতিযোগিতায়, নিশ্চিত নন তিনি। ঋদ্ধিমানের কথায়, মনে হয় না আইপিএলের বাকি ম্যাচ আর করা যাবে বলে। আর যদি স্থগিত প্রতিযোগিতা শুরুও হয়, খুব বেশি বিদেশি ক্রিকেটারকে পাওয়া যাবে না। বিদেশি ক্রিকেটারদের বাদ দিয়ে আইপিএল আয়োজন সৈয়দ মুস্তাক আলি টি২০ প্রতিয়োগিতার মতোই।

করোনাকে হারিয়ে ঋদ্ধি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। শরীরে কোনও দুর্বলতাও নেই। মাঠে নামার জন্য তিনি মুখিয়ে রয়েছেন। কিন্তু করোনা অতিমারির কারণে ভারতে এখন মাঠে নেমে অনুশীলনের সম্ভাবনা নেই। ফলে ২ জুন ইংল্যান্ড পৌঁছানোর পরই অনুশীলন শুরু করতে হবে তাঁকে। ঋদ্ধির কথায়, পরিস্থিতি সবার জন্যই এক। তাই মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায়ই বা কী। ইংল্যান্ড পৌঁছানোর পরই অনুশীলন শুরু করা যাবে।