প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, ভাঙচুর নার্সিংহোমে

453

রামপুরহাট, ১৪ এপ্রিলঃ প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় রামপুরহাটের একটি বেসরকারি নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। যদিও, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ নার্সিং হোমের মালিক তথা চিকিৎসক অশোক চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি রোগীর পরিবারের অবহেলার জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রাতে প্রসূতিকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই প্রসূতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। সোমবার দুপুরে নার্সিংহোমের সামনে মৃতদেহ নিয়ে এসে গ্রামবাসী ও মৃতার আত্মীয়রা বিক্ষোভ দেখান। প্রথমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে, তৃণমূল কংগ্রেসের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনের মধ্যস্থতায় পরিবারের লোকজন ফিরে যান।

জানা গিয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লকের আয়াস গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিসাইল গ্রামের সন্তান সম্ভবা ইয়াসমিনা বিবি (২২) কে রামপুরহাট হাসপাতাল পাড়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। ওইদিনই অস্ত্রপচারের ফলে তিনি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে কোভিড পরীক্ষা এবং জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু, মহিলার পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি না করে, তাঁকে বাড়ি নিয়ে চলে যান বলে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। ১০ সেপ্টেম্বর মহিলা নার্সিংহোমে সেলাই কাটাতে আসেন। কিন্তু, মহিলার শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায়, সেদিন তাঁর সেলাই কাটা হয়নি। এদিকে, ওই মহিলা অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পরে, পরিবারের লোকজন প্রসূতিকে রামপুরহাটের এক চিকিৎসকের প্রাইভেট চেম্বারে দেখান। তিনি মহিলাকে তৎক্ষণাৎ রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দেন। সেই মতো মহিলার পরিবারের সদস্যরা রবিবার রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। রাতে প্রসূতিকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

- Advertisement -

পরিবারের সদস্য তুফান শেখ, ইদেল শেখরা বলেন, ভুল অস্ত্রপচারের ফলে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। তাই চিকিৎসার পর প্রসূতিকে ছুটি দেওয়ার সময় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ কোনও টাকা নেয়নি। এমনকি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা ভুল চিকিৎসার কথা জানিয়েছেন। চিকিৎসক অশোক চট্টোপাধ্যায় জানান, ওই প্রসূতির কিছু জটিল রোগ ছিল। তাই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি করেননি। তিনি মৃতার পরিবারের লোকের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন। আর সে কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।