এক্সরে মেশিন বিকল, যক্ষ্মা রোগীদের চিকিৎসায় সমস্যা

446

গৌরহরি দাস, কোচবিহার : একদিকে কর্মীসংকট, অন্যদিকে এক্সরে মেশিন বিকল থাকায় কোচবিহারে টিবি চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট জেডি হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরেই ধুঁকছে। প্রায় তিন বছর ধরে হাসপাতালের এক্সরে মেশিনও নষ্ট হযে পড়ে রয়েছে। এতে হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা করতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। বিষয়টি একাধিকবার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দপ্তরে জানানোর পরেও কারও কোনও হেলদোল নেই। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা টিবি রোগীদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কোচবিহার শহর সংলগ্ন রাজারহাট এলাকায় ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই কোচবিহারের মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণের নামানুসারে জেডি হাসপাতাল। মূলত টিবি হাসপাতাল হিসাবেই এর পরিচিতি। কোচবিহার-২ ব্লক সহ জেলার বিস্তীর্ণ অংশের মানুষ  চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালটির উপর নির্ভরশীল। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ জন রোগী আসেন। একসময় জেলার প্রায় সমস্ত টিবি রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসতেন। চিকিৎসার জন্য তাঁরা এখানে ভর্তিও থাকতেন। তবে যক্ষ্মার চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হওযার পরে এখন অবশ্য আগের মতো অবস্থা নেই। তবে  সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি প্রচুর টিবি রোগী এখনও প্রতিদিন এখানে চিকিৎসার জন্য আসেন। তাঁদের একাংশ হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষার জন্য এক্সরে করা একান্তই জরুরি। অথচ গত প্রায় তিন বছর ধরে  হাসপাতালের এক্সরে মেশিন  খারাপ হযে পড়ে রয়েছে।

- Advertisement -

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার ডাঃ এ কে বালা বলেন, এই হাসপাতালে এক্সরে মেশিন খুবই জরুরি। সচল থাকাকালীন প্রতিদিন এখানে আট-দশটি করে এক্সরে হত। এভাবে চিকিৎসা করতে আমাদের যথেষ্ট সমস্যা হচ্ছে। রোগীদের এক্সরে করানোর জন্য কোচবিহার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। সুপার বলেন, বিষয়টি আমি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানিয়েছি। কয়েকবার এসে লোকজন দেখে গিয়েছে। কিন্তু মেশিন আর ঠিক হয়নি। তবে সমস্যা যে শুধু এক্সরে মেশিন নিয়ে তা নয়, ২৫ একরের বেশি এলাকাজুড়ে থাকা হাসপাতাল চত্বর পুরোটাই উন্মুক্ত। রাতের অন্ধকারে হাসপাতাল চত্বরে সমাজবিরোধীদের আড্ডা বসে। হাসপাতালে ঢোকার রাস্তা থেকে শুরু করে চত্বরে থাকা সমস্ত রাস্তাই ভেঙে চৌচির। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হাসপাতালে থাকা স্টাফদের থাকার জন্য বহুতল ভবন অনেক বছর ধরেই পরিত্যক্ত ঘোষণা হয়েছে। স্টাফদের যে সমস্ত কোযার্টার রয়েছে সেগুলির অবস্থাও বেহাল। হাসপাতাল চত্বরের বিভিন্ন ভবন জঙ্গলে ভরে প্রায় ভূতুড়ে বাড়ি হযে রয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালে ছয়জন ডাক্তার থাকার কথা। রয়েছেন মাত্র তিনজন। ওয়ার্ড মাস্টারের দুটি পদ থাকলেও তাতে একজনও নেই। নার্সের জন্য সরকারি ২৯টি পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র ১০ জন। চতুর্থ শ্রেণির ৪০ জন কর্মীর মধ্যে মাত্র ১২ জন রয়েছেন। সাফাইকর্মীর ১২টি পদ থাকলেও রয়েছেন মাত্র দুজন। হাসপাতালের কর্মীদের একজন বলেন, এখন স্বাস্থ্যকর্তাদের কাউকে কিছু বলতে গেলেও তাঁরা করোনায় ব্যস্ত বলে সমস্যা শুনতে চাইছেন না। অথচ যক্ষ্মা সহ অন্য রোগীদের চিকিৎসায় যে সমস্যা হচ্ছে, সেটা তো আমাদেরই সামলাতে হচ্ছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা বলছেন, একটা এক্সরে মেশিন কেন তিন বছর ধরে খারাপ হযে পড়ে থাকবে? সেটা সারানো না গেলে বিকল্প ব্যবস্থা করা হোক। কোচবিহারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।