এক্সরে প্লেট নেই, জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে ভরসা স্মার্টফোনে ছবি

238

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি :  স্মার্টফোনকে আঁকড়ে ধরেছে এক্সরে। অবাক লাগছে? জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে পিপিপি মডেলে তৈরি ডিজিটাল এক্সরে ইউনিটে কিন্তু স্মার্টফোনই এই পরিষেবাকে আপাতত ভরসা জোগাচ্ছে। এক্সরে ফিল্মের ঘাটতি। রোগীদের বেশিরভাগই এক্সরে ফিল্ম পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তাঁদের বেশিরভাগই এক্সরে মেশিনের মনিটর থেকে পরীক্ষার রেজাল্টের ছবি নিজেদের স্মার্টফোনে তুলে নিয়ে তা চিকিৎসকদের দেখাচ্ছেন। যাঁদের স্মার্টফোন নেই? সেক্ষেত্রে আত্মীয়পরিজন বা পড়শির হোয়াটসঅ্যাপের নম্বর দিলে এক্সরে ইউনিটের কর্মীরা নিজের স্মার্টফোনে এক্সরে পরীক্ষার রেজাল্টের ছবি তুলে নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। প্রায় ১০ দিন ধরে এভাবেই এই ইউনিটে পরিষেবা চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের এক্সরে প্লেট দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যাঁদের শরীরে জটিল কোনও সমস্যা ধরা পড়ছে তাঁদের ক্ষেত্রেও এই প্লেট দেওয়া হচ্ছে।

সুপার ডাঃ গয়ারাম নস্কর বলছেন, ডিজিটাল এক্সরে ইউনিটে প্লেটের সরবরাহ কম থাকায় একটা সমস্যা রয়েছে। যাঁরা পিপিপি মডেলের এই এক্সরে ইউনিটের দায়িত্বে রয়েছেন, পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে তাঁদের বলা হয়েছে। জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালেও এক্সরে ইউনিট রয়েছে। রোগীরা সেখান থেকে ভালোভাবেই পরিষেবা পাচ্ছেন। এক্সরে ইউনিটের দায়িত্বে থাকা কর্মী প্রিয়া সরকার বলেন, স্মার্টফোন না থাকলেও কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। দূর থেকে আসা কারও কাছে স্মার্টফোন না থাকলে তাঁকে এক্সরে প্লেট দেওয়া হচ্ছে। সমস্যার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

- Advertisement -

ক্রান্তির বাসিন্দা সুশান্ত রায় সম্প্রতি বাইক দুর্ঘটনায় পায়ে চোট পান। চিকিৎসকের পরামর্শে গত সোমবার তিনি তিনি হাসপাতালে এক্সরে করাতে এসেছিলেন। কিন্তু পরীক্ষার রেজাল্ট পেতে যে স্মার্টফোন লাগবে তা তাঁর জানা ছিল না। তাই সেদিন তাঁর এক্সরে করানো হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে তাঁকে স্মার্টফোন হাতে এক্সরে ইউনিটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। সুশান্তর কথায়, এক্সরে করাতে স্মার্টফোন লাগবে তা জানতাম না। বাড়িতে স্মার্টফোন থাকলেও তা নিয়ে সাধারণত বাইরে বের হই না। সোমবার ছোট ফোন নিয়ে এসেছিলাম। এদিন বাধ্য হয়ে স্মার্টফোন নিয়ে আসতে হল। এতটা দূর থেকে এসে হয়রানও হতে হল। বেরুবাড়ির বাসিন্দা মোতালিফ হুসেন এদিন এক্সরে করাতে এসেছিলেন। স্মার্টফোন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই প্যান্টের পকেট থেকে একটি ছোট ফোন বের করে বললেন, আমার কাছে এটাই আছে। প্রবীণ মানুষটির সমস্যা বুঝে কর্তৃপক্ষ তাঁর ছেলের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পরীক্ষার রেজাল্ট পাঠানোর ব্যবস্থা করে। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের এক্সরে ইউনিটে দিনে ১৫০ জনের এক্সরে করা হয়। এঁদের মধ্যে ১০-১৫ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি রোগী। তাঁদের এক্সরে প্লেট দেওয়া হয়। বাকিদের অধিকাংশকেই প্লেটের বদলে সরাসরি মেশিনের মনিটর থেকে পরীক্ষার রেজাল্ট স্মার্টফোনে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এভাবে কি ঠিকমতো পরিষেবা দেওয়া সম্ভব? হাসপাতালের এক চিকিৎসকের কথায়, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সাহায্য করলেও এটি কখনও স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। অনেক সময় হাত কেঁপে যাওয়ার দরুন মোবাইলে তোলা ছবি অস্পষ্ট হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে হাড়ে সূক্ষ্ম কোনও চিড় থাকলে তা বোঝা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে এক্সরে প্লেটই স্থায়ী সমাধান।