তাসের জাদুতে সংক্রমণ রোধের বার্তা যোগেশের

53

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : কোভিড নিয়ে সচেতনতার প্রসারে ম্যাজিককে হাতিয়ার করেছেন নাগরাকাটার হোপ চা বাগানের এক যুবক। নাম যোগেশ গুরুং। হোপের বাজার লাইনের বাসিন্দা ওই কলেজ পড়ুয়া নিজের মস্তিষ্কপ্রসূত অভিনব তাসের ম্যাজিক এখন বাগানের বিভিন্ন শ্রমিক মহল্লায় গিয়ে দেখাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক দূরত্ববিধি না মানাই যে মারাত্মক ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম মূল কারণ সেটাই ম্যাজিকের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে।

যোগেশ বলেন, বক্তব্যের আকারে হাজারো কথা বললেও সেটা অনেকের কাছেই নিরস ঠেকে। তবে ম্যাজিক চিরকালই সব বয়সি মানুষের কাছেই আকর্ষণীয়। সেকারণে যা বলতে চাই, তা প্রত্যেকে উৎসাহের সঙ্গে ম্যাজিক দেখে চটজলদি বুঝে যাচ্ছে। যোগেশের প্রয়াসকে কুর্নিশ জানাচ্ছে ব্লক স্বাস্থ্য দপ্তরও। নাগরাকাটার বিএমওএইচ ডাঃ সুপর্ণ হালদার বলেন, অত্যন্ত ভালো প্রয়াস। এতে আমাদের কাজটিও অনেকটাই সহজ হবে।

- Advertisement -

ম্যাজিকে ঠিক কী দেখাচ্ছেন চা শ্রমিক পরিবারের ওই পড়ুয়া? তাঁর হাতে থাকছে এক প্যাকেট তাস। তার মধ্যে একটিতে করোনা ভাইরাসের ছবি আঁকা। বাকিগুলি রুইতন, হরতন, ইস্কাবন ও চিড়েতন। করোনা ভাইরাসের তাসটি যদি একবার অন্যান্য তাসের সংস্পর্শে চলে আসে তবে সবগুলিই করোনার তাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে যোগেশের ছু-মন্তরে। আবার করোনার তাসটিকে আলাদা করে ফেললে অন্য তাসগুলি ফের স্বাভাবিক তাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। মাত্র দিনতিনেক মাথা খাটিয়ে তাঁর ওই ম্যাজিক সৃষ্টি বলে জানান যোগেশ।

য়েহেতু এলাকায় বর্তমানে যোগেশের ম্যাজিক ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে, সেকারণে হোপ চা বাগানের পরিচালকরা যোগেশকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাগানের শ্রমিক কল্যাণ আধিকারিক অশোক ঝা বলেন, সমস্ত শ্রমিককে ওই ম্যাজিকটি দেখানো হবে। এজন্য যোগেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ম্যাজিক দেখানো ও নিত্যনতুন ম্যাজিক তৈরি করা যোগেশের নেশা। এর আগে তাঁর এই প্রতিভার জন্য তিনি সর্বভারতীয় একটি টিভি চ্যানেলের রিয়ালিটি শো-তেও ডাক পেয়েছিলেন। বর্তমানে হোপ চা বাগান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে তৈরি সেখানকার যুবকদের নিয়ে গঠিত কোভিড স্কোয়াডে যোগেশ যুক্ত হয়েছেন। ওই স্কোয়াডের সদস্যরা নিয়ম করে বাগানের বাসিন্দাদের মাস্ক পরা, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোওয়া ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার প্রচার করছেন। এবার ম্যাজিকের মাধ্যমে করোনাকে ভ্যানিশ করার প্রয়াসে শামিল হয়েছে হোপের কোভিড স্কোয়াড।