হাথরাস গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তে সিট গঠন যোগী সরকারের

515

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে গণধর্ষণ কাণ্ড অমানবিক এবং নিষ্ঠুরতার সীমা ছড়িয়ে গিয়েছে। যে কারণে উত্তাল দেশ। সকলেই দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবি তুলছেন। এমত অবস্থায় বুধবার সকালে ঘটনার তদন্তের জন্য স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গঠিত তিন সদস্যের স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিমকে যত তাড়াতাড় সম্ভব তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কোনও ভাবেই দোষীরা যাতে রেয়াত না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, মামলার শুনানি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হবে।

যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, “হাথরাস গণধর্ষণের ঘটনায় দোষীদের ছাড়া হবে না। এই ঘটনায় যে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, তারা আগামী সাতদিনের মধ্যে আমাকে রিপোর্ট জমা দেবে। যাতে তাড়াতাড়ি বিচার হয়, তার জন্য এই মামলার শুনানি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে হবে।” তিনি আরও বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে আমার কথা হয়েছে। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।”

- Advertisement -

গত ১৪ সেপ্টেম্বর নিজের গ্রামে চার দুষ্কৃতীর দ্বারা ধর্ষিত হন তরুণী। তাঁকে মারাত্মক জখম অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরের দিন তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আলিগড়ের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে শেষমেশ হার মানেন তরুণী। ঘটনায় অভিযুক্ত চার জনকে পরে গ্রেফতার করে পুলিশ। হাথরাস থানার ওসিকে বদলি করে পুলিশ লাইনস-এ পাঠানো হয়। নিগৃহীতার বাড়িতে পাহারার বন্দোবস্ত করা হয়।

১৪ সেপ্টেম্বর নিজের গ্রামেই একটি পরিত্যক্ত জায়গায় তুলে নিয়ে গিয়ে তফশিলী জাতিভুক্ত তরুণীর উপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করার পাশাপাশি তাঁর জিভ কামড়ে ছিঁড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ধর্ষকরা। ক্ষতবিক্ষত তরুণীকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ঘটনার তিন দিনের মাথায় মোট চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আপাতত জেলে রয়েছে তারা। সূত্রের খবর, অভিযুক্তরা তথাকথিত উঁচু জাতের। তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, রাতে বাড়ি না ফেরায় তাঁরা স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ কোনও গা করেনি। আরও আগে যদি মেয়েকে উদ্ধার করা যেত তাহলে হয়তো প্রাণে মরতে হতো না। মৃতের ভাইয়ের আরও অভিযোগ, দিদির দেহ সৎকারের আগেই মধ্যরাতে তা ছিনিয়ে নেয় পুলিশ। এবং পরিত্যক্ত একটি জায়গায় তা দাহ করা হয়। তাঁদের থেকে কোনও অনুমতি না নিয়েই পুলিশ এই কাজ করেছে।

এদিকে বুধবার সকালে উত্তরপ্রদেশ সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে টুইট করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রাহুলের টুইট করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দূরে একটি কাঠের স্তূপের মধ্যে আগুন জ্বলছে। চারিদিক ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ভিডিওতে এও শোনা যাচ্ছে, একজন মহিলা সাংবাদিক দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্তাকে জিজ্ঞেস করছেন, ওখানে কী জ্বলছে? পুলিশ কর্তা জবাব দিচ্ছেন জানি না। ফের তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, ওখানে কি মৃত দেহ সৎকার হচ্ছে? তার জবাবে তিনি বলেন, ডিএমকে জিজ্ঞাসা করুন।

রাহুল গান্ধি ছাড়াও ঘটনার প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন বিরাট কোহলি। তিনি অপরাধীদের উচিত শাস্তিরও দাবি জানালেন। তিনি টুইটারে লেখেন, ‘হাথরাসে যা ঘটেছে, তা অমানবিক এবং নৃশংসতার সব সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। আশা করি এমন জঘন্য অপরাধকারীদের যথাযথ বিচার হবে।’