নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের জেরে মোরির পদত্যাগ

টোকিও : বিতর্ক আর টোকিও অলিম্পিক ক্রমেই সমার্থক হয়ে উঠছে।

করোনার জন্য একবছর গেমস পিছিয়েছে আগেই। তবে করোনার মধ্যে বিদেশিদের ভিড় এড়াতে এবছরও অলিম্পিক আয়োজনের বিরোধিতা করছেন জাপানের প্রায় ৮০ শতাংশ নাগরিক। এরমধ্যেই নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে বিতর্কে গেমসের আয়োজক কমিটির সভাপতি ইওশিরো মোরি। ঘরে-বাইরে প্রতিবাদের মুখোমুখি হয়ে শুক্রবার পদত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

 

সম্প্রতি মোরি মন্তন্য করেন, মেয়েরা সবসময় বেশি কথা বলে আর অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মনোভাব রাখে। ফলে কোনও বৈঠকে ওদের উপস্থিতির অর্থ দ্বিগুণ সময় ধরে বৈঠক চলা। এরপরেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। সেদেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্রীড়াবিদ ও সরকারি আধিকারিকদের একাংশ মোরির পদত্যাগের দাবি জানান। এমনকি আন্তজার্তিক অলিম্পিক কমিটির তরফে মোরির বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং অলিম্পিক চেতনার বিরোধী বলে অভিহিত করা হয়।

এরপরেই গেমস আয়োজক কমিটির সভায় পদত্যাগ করার কথা জানান মোরি। তিনি বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ে গেমস আয়োজন আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমার উপস্থিতি সেই কাজে বাধা তৈরি করতে পারে। তাই আমি আজ পদত্যাগ করছি। বিতর্কিত মন্তব্য প্রসঙ্গে তাঁর মত, আমার বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই জলঘোলা হয়েছে। ওই কথার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

৮৩ বছরের মোরি জাপানে অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১২ পর্যন্ত ১৪ বার পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছেন তিনি। ২০০০ সাল থেকে প্রায় একবছর প্রধানমন্ত্রীর পদও সামলেছেন। পরিশীলত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মোরির এমন বক্তব্যে অনেকেই অবাক হয়েছেন। বয়সের কারণেই তিনি বিতর্কিত এই মন্তব্য করে ফেলেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে মোরির উত্তরসূরি নিয়ে বিতর্ক শুর হয়েছে। পরবর্তী সভাপতি হিসেবে মোরি বছর চুরাশির ফুটবল কর্তা সাবুরো কাওয়াবুচির নাম জানান। তবে উত্তরসূরি বাঁছার ক্ষেত্রে মোরির নাক গলানো এবং কাওয়াবুচির বয়স নিয়ে ফের বিতর্ক শুরু হয়। এমন অবস্থায় তিনি এই পদে আসার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করেন। আপাতত সেদেশের অলিম্পিক মন্ত্রী তথা প্রাক্তন অলিম্পিয়ান সেইকো হাসিমোতো কমিটির প্রধান হওয়ার দৌড়ে সবার আগে আছেন।