ভূগোল পড়ে চাকরি মেলে নাসাতেও

158

নিউজ ব্যুরো : জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ভূগোল। প্রধান কারণ, বিষয়টির প্রাসঙ্গিকতা ও পেশাগত সুবিধা। কাজের জগতে ভূগোল পড়ুয়াদের চাহিদা বাড়ছে ক্রমশ। গতানুগতিক পথে পা না বাড়িয়ে এগোনো যায় নতুন ভাবে। ভূগোল পড়লে খুলে যাবে কেরিয়ারের হাজার দুয়ারি।

কেন পড়বেন ভূগোল
একজন ভূগোলবিদ একাধারে ভূ-বিজ্ঞান থেকে শুরু করে জলবাযু, সমুদ্র, উদ্ভিদ-ভূগোল তত্ত্ব, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, বাস্তুসংস্থান বিদ্যা, দুর্যোগ মোকাবিলা, নগর পরিকল্পনা, গ্রামীণ পরিকল্পনা ইত্যাদি নানা বিষয়ে পারদর্শিতা লাভ করতে পারেন। তাই দেশের দুর্যোগ মোকাবিলায় যেমন ডাক পড়ে ভূগোলবিদের, তেমনি জলে-স্থলে-মহাশূন্যে– যে কোনও পরিকল্পনার বাস্তব প্রযোগে ভূগোলবিদের বিকল্প নেই। অবাক লাগলেও সত্যি যে, মানুষ প্রথম যে অভিযানে চাঁদের বুকে সভ্যতার পায়ে ছাপ এঁকে দিয়ে এসেছিল, সেই অভিযানে এই ভূগোলবিদরা অন্যতম প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন।

- Advertisement -

দিন দিন উন্নত দেশগুলোর বৈশ্বিক রাজনীতির পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক কৌশল পরিবর্তন হওয়ায় ভূগোলবিদদের কদর বেড়েই চলেছে। জলবায়ুতে ভূগোল, কৃষিতে ভূগোল, দুর্যোগ মোকাবিলায় ভূগোল, নগর ও গ্রাম পরিকল্পনায় ভূগোল, দেশের উন্নতিতে ভূগোল, এমনকি মানুষ মারার যে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধেও এখন ভূগোল ও ভূগোলবিদদের জয় জয়কার।

উচ্চশিক্ষা ও কাজের সুযোগ
ভূগোল নিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগও প্রচুর। মেধাবীরা স্পেশালাইজেশন করতে পারেন এইসব বিষয়ে-কার্টোগ্রাফি, আর্বান অ্যান্ড টাউন প্ল্যানিং, রিজিওনাল প্ল্যানিং, ফিজিওগ্রাফি, ক্লাইমেটোলজি, ওশিয়ানোগ্রাফি, পপুলেশন স্টাডিজ ইত্যাদিতে। স্যাটেলাইট টেকনোলজি ও জিওগ্রাফিক ইনফর্মেশন সিস্টেমের এই বিশ্বে নিত্যনতুন দিশা মিলছে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, রিমোট সেন্সিং নিয়ে পড়ে বিভিন্ন রিসার্চ ইনস্টিটিউটে গবেষণা করা যায়, ন্যাশনাল অ্যাটলাস অ্যান্ড থেমাটিক ম্যাপিং অর্গানাইজেশন অর্থাৎ ন্যাটমো বা এই ধরনের সংস্থায় বড়মাপের চাকরিও মেলে। মাস্টার্স ইন প্ল্যানিং (আর্বান/রিজিওনাল) করার পরে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা থেকে শুরু করে কর্পোরেট, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাতেও কাজ পেতে পারেন।

বর্তমানে বিশ্বের ৭২টি দেশে স্পেস এজেন্সি আছে। এর বাইরেও মহাকাশচর্চায় যোগ দিয়েছে আরও বহু দেশ। ভারত ও অন্যান্য দেশের পাশাপাশি মহাকাশ গবেষণায় সবচেয়ে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান নাসা-তেও কাজের সুযোগ বাড়ছে মেধাবী ভূগোল পড়ুয়াদের।

শিক্ষালাভ ও কাজের সুযোগের বিষয়ে জরুরি তথ্য

১. ইনটারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন স্টাডিজ (আইআইপিএস)

কোর্স : ক. এমএ/এমএসসি ইন পপুলেশন স্টাডিজ, খ. এমএসসি ইন বায়োস্ট্যাটিসটিক্স অ্যান্ড ডেমোগ্রাফি, গ. এমপিএস (মাস্টার্স ইন পপুলেশন স্টাডিজ) অ্যান্ড এমএ ইন ডিস্ট্যান্স মোড, ঘ. পিএইচডি ইন পপুলেশন স্টাডিজ, ঙ. পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ (পিডিএফ)।

কাজের সুযোগ : মিনিস্ট্রি অফ হেল্থ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার (ভারত সরকার), ইউএনএফপিএ, ইউএনডিপি, এসইএআরসিএইচ, টিআইএসএস, পিএসআই, রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন, ডবলিউএইচও, ইউনিসেফ, এনআইএমএস, আইএইচএটি, এনআইইএলএসইএন, আইসিএমআর, পাবলিক হেল্থ ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়া, পিআরসি, চাইল্ড ফান্ড ইনটারন্যাশনাল, পপুলেশন কাউন্সিল, কেয়ার ইন্ডিয়া সহ বহু বেসরকারি সংস্থাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ মেলে।

২. টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স (টিআইএসএস)

কোর্স : ক. টিআইএসএস-এর মুম্বাই, হায়দরাবাদ, তুলজাপুর, গুয়াহাটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাস্টার ডিগ্রি করা যায় হেল্থ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সোশ্যাল ওয়ার্ক, উওম্যানস স্টাডিজ, এডুকেশন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লেবার রিলেশনস, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড জাস্টিস, হেল্থ পলিসি-ইকনমিক-ফিনান্স, সোশ্যাল এন্টারপ্রেনারশিপ, লেবার স্টাডিজ অ্যান্ড প্র‌্যাক্টিসেস, হসপিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, সোশ্যাল এপিডেমোলজি, ডিসএবিলিটি স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যাকশন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, মেন্টাল হেল্থ, এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড সাস্টেনএবিলিটি স্টাডিজ, আর্বান পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স, অর্গানাইজেশন ডেভেলপমেন্ট, চেঞ্জ অ্যান্ড লিডারশিপ, কমিউনিটি অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্র‌্যাকটিস, দলিত অ্যান্ড ট্রাইবাল স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যাকশন, ওয়াটার পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স, সোশ্যাল ওয়ার্ক ইন রুরাল ডেভেলপমেন্ট, সাস্টেনেবল লাইভলিহুডস অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস গভর্ন্যান্স, সোশ্যাল ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ। একজন ভূগোল স্নাতক উল্লিখিত কোর্সগুলিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন।

খ. টিআইএসএস মুম্বাই ও হায়দরাবাদে পিএইচডি করারও সুযোগ আছে এইসব বিষয়ে হ্যাবিট্যাট স্টাডিজ, হেল্থ সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট, সোশ্যাল ওয়ার্ক, উওম্যান স্টাডিজ, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, ডিজাস্টার স্টাডিজ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল জাস্টিস, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড লেবার স্টাডিজ, পাবলিক হেল্থ, রুরাল ডেভেলপমেন্ট। ভূগোলের পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা উল্লিখিত বিষয়গুলিতে পিএইচডি করতে পারেন।

গ. একইসঙ্গে টিআইএসএস নানা বিষয়ে অনলাইন সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা, পোস্ট গ্র‌্যাজুয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করিয়ে থাকে বছরভর।

কাজের সুযোগ  : প্রতিবেদনে উল্লিখিত কোর্সগুলি করে কাজের সুযোগ পাওয়া যায় এইসব সংস্থায়-এনআইডিএম, জিআইডিএম, ইউএনডিপি, স্ফিয়ার ইন্ডিয়া, জিএফডিআরআর, জিএসডিএমএ, ওএক্সএফএএম, এইচআইপিএ, জিভেকে, আদিত্য বিড়লা গ্রুপ, ইউনিসেফ, কেপিএমজি, টিসিএসআরডি, আই-প্যাক, এনসিডিইএক্স, কোকাকোলা, ভিতুসা পোলারিস, টাটা মোটরস, আইটিসি, এলঅ্যান্ডটি, সিনক্রোনি, ডিইসিওআর, জেপি মর্গ্যান সহ বহু বেসরকারি সংস্থায়।

৩. সিইপিটি ইউনিভার্সিটি

কোর্স : ক. যে কোনও স্বীকৃত বোর্ড থেকে উত্তীর্ণ উচ্চমাধ্যমিক বা ১০+২ যোগ্যতায় ব্যাচেলর্স ডিগ্রি করা যাবে আর্বান ডিজাইন-এ। খ. গ্র‌্যাজুয়েট যোগ্যতায় মাস্টার্স ডিগ্রি করা যাবে আর্বান প্ল্যানিং, আর্বান ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, আর্বান হাউজিং ও আর্বান ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে গ. ভূগোলে মাস্টার্স করে থাকলে প্ল্যানিং-এ পিএইডি করা যাবে।

কাজের সুযোগ  : মিনিস্ট্রি অফ হাউজিং অ্যান্ড আর্বান অ্যাফেয়ার্স, জিআএফটি, আরএসসিডিএল, জিএসসি, সিআইডিসিও, টাটা ট্রাস্ট, সিডিএসএ, আইআইএইচএস, সিআরডিএফ, এইইই, ইওয়াই, পিডবলিউসি, কেপিএমজি, সিবিআরই, জেএলএল, ইউএমসি, এটিকেআইএনএস সব বহু বেসরকারি সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ।

৪. ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং (আইআইআরএস)

কোর্স : ক. এমএসসি করা যাবে জিও-ইনফর্মেশন সায়েন্স এবং আর্থ অবজার্ভেশনে। ভূগোলে পোস্ট-গ্র‌্যাজুয়ে শিক্ষার্থীরা এই কোর্সের জন্য যোগ্য। খ. এমটেক করা যাবে রিমোট সেন্সিং এবং জিআইএস-এর ৯টি বিশেষ বিভাগে। ভূগোলে পোস্ট-গ্র‌্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা এই কোর্সের জন্য যোগ্য। গ. আছে পিএইচডি-র সুযোগও।

কাজের সুযোগ  : সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় কাজের সুবিধা পাওয়া যাবে।

৫. সিমবায়োসিস ইনস্টিটিউট অব জিওইনফর্মেটিক্স

কোর্স : গ্র‌্যাজুয়েট যোগ্যতায় জিওইনফর্মেটিক্সে এমএসসি করা যাবে এই সংস্থায়।

কাজের সুযোগ : টাটা, জেনেসিস, ইএমসি, এএসবি সিস্টেম, বিএসইএস দিল্লি, এসপিএনসিও, জিওফিনি, ইএসআরআই, ইআরডিএএস, সাইবারটেক, লাইকা জিওসিস্টেম, রিলায়েন্স এনার্জি, এনএভিটিইও সহ বহু বেসরকারি সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে।

৬. আইআইটিএস

কোর্স : ক. আইআইটি রুরকি-ভূগোলে গ্র‌্যাজুয়েট যোগ্যতায় হাইড্রোলজিতে এমটেক করা যায়। খ. আইআইটি বম্বে-ক্লাইমেট স্টাডিজ-এ ইনটারডিসিপ্লিনারি কোর্স অর্থাত্ আইডিপি করা যাবে।

৭. ফ্যাকাল্টি সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট

কোর্স : গ্র‌্যাজুয়েট যোগ্যতায় এমএসসি করা যাবে এগ্রিকালচার ও রুরাল ডেভেলপমেন্ট, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টে।

৮. আইআইইএসটি শিবপুর

কোর্স : ভূগোলে পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট যোগ্যতায় আর্বান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং (এমইউআরপি)-এ মাস্টার্স করা যায়।

কাজের সুযোগ : সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থায় কাজের সুযোগ মেলে।

৯. ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, কলকাতা (আইডিএসকে)

কোর্স : ক. ভূগোলে পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট যোগ্যতায় এমফিল করা যাবে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে। খ. ভূগোলে পোস্ট গ্র‌্যাজুয়েট পড়ুয়ারা ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে পিএইচডি করতে পারবেন।

১০. বিআইটি মেসরা

কোর্স : মাস্টার্স করা যাবে আর্বান প্ল্যানিং-এ।

১১. স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড প্ল্যানিং, বিজয়ওয়াডা

কোর্স : মাস্টার্স করা যাবে আর্বান ও রিজিওনাল প্ল্যানিং-এ।

সবশেষে বলে রাখি, ভূগোল নিয়ে পড়লে শিক্ষার্থীদের সামনে কেরিয়ারের হাজার দুয়ার খুলে যাবে। একাগ্রতা ও অধ্যবসায় থাকলে মহাকাশ গবেষণার সর্বোচ্চ সংস্থা নাসাতেও চাকরি পাওয়া সম্ভব।