শত আঘাতেও সাইকেল থামেনি সুতলিপট্টির তাপসীর

309

প্রিয়া সিংহ,  আলিপুরদুয়ার : যেসব মেয়ের গল্প শুনে আমরা বারবার বলে উঠি, শুধু ৮ মার্চ নয় বছরের প্রতিটা দিনই হওয়া উচিত মেয়েদের, তাদের মধ্যে তাপসী দাসের নাম একবাক্যে নেওয়া যায়। তাপসীর বাড়ি আলিপুরদুয়ার শহরের সুতলিপট্টি এলাকায়। বাবা, মাকে হারিয়ে সংসারের দাযিত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিনি। স্বল্প উপার্জনে সংসার চালানোর পাশাপাশি ভাইকেও লেখাপড়া শেখাচ্ছেন ওই যুবতী। তাপসীর সবসময়ে সঙ্গী তাঁর সাইকেল। সেই সাইকেলে করেই গত চার বছর ধরে ধূপকাঠি এবং মাইক্রো গোল্ডের গয়না ফেরি করেন তিনি।

শত আঘাতেও সাইকেল থামেনি সুতলিপট্টির তাপসীর| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaতাপসীর এই সংগ্রাম আজকের নয়। তাপসী জানান, মা ভালো থাকতে তিনি বাদাম ভেজে প্যাকেটে ভরে ফেরি করতেন। কিন্তু, তাপসী যখন একাদশ শ্রেণিতে পড়েন তখন হঠাৎ তাঁর মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপরই তাপসীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে মা মারা য়ান। বাবা মারা য়ান ২০১৮ সালে। এরপর সংসারের দায় পুরোপুরি তাঁর কাঁধে এসে পড়ে। তবে এখানেই শেষ নয়। বাবা বেঁচে থাকতেই দোতলা ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে তাপসীর দাঁত ও কোমরে চোট লাগে। কোমরে প্লেট বসানো হয়। তারপরও তাঁর সাইকেল থামেনি। তাপসীর ভাই এখন শহরের গোবিন্দ হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তাপসী জানান, নিজে পড়াশোনা করতে না পারলেও তাঁর ভাই যাতে তা করতে পারে সে ব্যাপারে তাঁর চেষ্টার খামতি রাখবেন না। তাপসীর বয়স এখন সাতাশ। তাঁর বয়সী অন্য যখন মেয়েরা নিজেদের কেরিয়ার, জীবন, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে ব্যস্ত, তখন তাপসী সাইকেল সঙ্গী করে ধূপকাঠি ভর্তি ব্যাগ নিয়ে শহরের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। তাপসীর প্রতিবেশীরা জানান, শত দারিদ্র‌্যের মধ্যেও কীভাবে মাথা তুলে বাঁচতে হয়, তা তাপসীর জীবনের লড়াই দেখে শিখতে হয়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তাপসী জানান, ইচ্ছে আছে একটি দোকান খুলবেন যাতে আর ঘুরে ঘুরে জিনিস বিক্রি করতে না হয়।

- Advertisement -