মানসিক অবসাদে আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের

340

রায়গঞ্জ: লকডাউনে কাজ হারিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন কালিয়াগঞ্জ শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজিপল্লির দক্ষিণ আঁখানগরের বাসিন্দা ক্ষৌরকার কাঞ্চন ঠাকুর। শুক্রবার সকালে সে নিজের গলায় ক্ষুর চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। তাকে উদ্ধার করে কালিয়াগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।বর্তমানে সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন। অবস্থা সংকটজনক বলে হাসপাতালে সূত্রে খবর।

পরিবার সূত্রে জানাগিয়েছে, এদিন সকালে মা মায়াদেবী ছেলের চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখে তার ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় ছটফট করছে। মায়াদেবীর চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসে পাড়াপড়শিরা। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখান থেকে রেফার করে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে অপারেশন। অপারেশন করেন শল্য বিভাগের চিকিৎসক সহ নাক-কান-গলার চিকিৎসকেরা।

- Advertisement -

জখমের স্ত্রী দীপ্তি দেবী বলেন, “মার্চের শেষ থেকে লকডাউনে দোকান খুলতে পারছেন না। পাঁচ জন সদস্যের সংসার। রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ। কিভাবে খাবার জুটবে। কয়েকদিন মনমরা হয়ে বাড়িতে বসে ছিল।স্বামীর যাতে সমস্যা না হয় দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তারপর এই ঘটনা। এদিন সকালে ফোন মারফত জানতে পারি। আমার স্বামী গলায় ক্ষুর চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।”

জখমের মা মায়া ঠাকুর বলেন, “দিন কয়েক ধরেই অভাব-অনটনের জেরে মানসিক অবসাদে ভুগছি আমার ছেলে। তবে ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি মনে মনে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে আমার ছেলে। ছেলের কিছু হয়ে গেলে আমরা খাব কি? জখমের মাসতুতো দাদা মনোজ ঠাকুর বলেন,” লকডাউনের জেরে দীর্ঘ কয়েক মাস মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। দিন কয়েক আগে আমার টাকা দিয়েই মানসিক ও স্নায়ু রোগ চিকিৎসক পার্থসারথি রায়কে দেখাই। তিন মাসের ওষুধ দিয়েছিল। সেই ওষুধগুলো নিয়মিত না খাওয়ার জন্যই সমস্যা বেড়ে যায়। এদিন সকালে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।”