প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে হেলমেট নিয়ে সচেতনতা প্রচারে যুবক

543

দিনহাটা : বাইকে হেলমেট পরা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার ও পুলিশের উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনও রাস্তায় বেরোলে হেলমেটবিহীন বাইকচালকের দেখা মেলে। এই হেলমেটবিহীন বাইকচালকদের একটা বড় অংশ নবীন প্রজন্ম। বর্তমানে হেলমেট না থাকার কারণে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনার কথা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। তাই হেলমেট মিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন বছর পঁচিশের বৈনাপল্লি সাধন রাউ। বাইক চালিয়ে দেশের ২৯ রাজ্যে গিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াচ্ছেন তিনি। এই অভিযানের জন্য অবশ্য তাঁর ব্যক্তিগত কারণও রয়েছে। হেলমেট না পরার জন্য তাঁর প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছেন সাধন রাউ। এই ঘটনার পর তিনি জনগণের মধ্যে হেলমেটের গুরুত্ব সম্পর্কে প্রচারে উদ্যোগী হয়েছেন।

২৮ নভেম্বর  হায়দরাবাদের কুকাটতল্লির বাড়ি থেকে ওয়্যার হেলমেট সেভ ফ্যামিলি ট্যাগলাইনকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করেন বৈনাপল্লি সাধন রাউ। ইতিমধ্যে তাঁর এই অভিনব প্রচার গাড়ি তেলেঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, গোয়া, কর্ণাটক, কেরল, তামিলনাডু, পণ্ডিচেরী, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, ছত্তিশগড়, সিকিমের মতো ১১টি রাজ্যে ঘুরে এসেছে। চারদিন আগে তাঁর এই অভিনব প্রচার গাড়ি পশ্চিমবঙ্গে আসে। কলকাতার রাজপথে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচার চালান তিনি। এরপর কলকাতার পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর রাজ্যের একাধিক জেলায় হেলমেট নিয়ে সচেতনতা অভিযানে বেরিয়ে পড়েন। মঙ্গলবার এই অভিযানের অংশ হিসেবে তিনি দিনহাটায় আসেন।

- Advertisement -

ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র বৈনাপল্লি সাধন রাউ বলেন, বরাবরই আমার বাইক রাইডিংয়ের প্রতি ঝোঁক ছিল। আর সেজন্য বাইক চালিয়ে দেশের একাধিক রাজ্য ঘুরেছি। ঘুরতে গিয়ে একাধিক ঘটনার জেরে আমি বুঝতে পারি, হেলমেট কতটা প্রয়োজন। হেলমেট না থাকার কারণে আমার প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছি। তাই মানুষের মধ্যে হেলমেট নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে এই প্রচেষ্টা। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্যে এই সচেতনতামূলক অভিযান হয়েছে। আগামীতে আরও ১৬টি রাজ্যে যাব। হেলমেট না পরায় কোনও বাইক আরোহীর কিছু হলে তার ফল সবচাইতে বেশি ভুগতে হয় ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের। তাই নিজেরা হেলমেট পরা মানে পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা। আর এই বিষয়টি জনগণের মধ্যে প্রচার করতেই এই অভিয়ান শুরু করেছি। এদিন সাধন রাউয়ের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন দিনহাটার ওসি (ট্রাফিক) প্রকাশ দাস।