ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এ নাম তুলল বাংলার যুবক

652

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: ক্ষুদ্র ক্যানভাসের উপর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি এঁকে ইতিহাস তৈরি করল এক ভাগচাষীর ছেলে। পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের সুটরা গ্রামের বাসিন্দা কৃতি ওই আর্টের ছাত্রের নাম বুবুন পাল। নিজের আঁকা ছবির দৌলতে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুলে তিনি সাড়া ফেলে দিয়েছেন। বুবুনের এই সাফল্যে স্বভাবতই খুশি তাঁর বাবা-মা, আত্মীয় পরিজন, বন্ধু ও অঙ্কন শিক্ষকরা।

মন্তেশ্বর ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রাম সুটরা। এই গ্রামের বাসিন্দা যজ্ঞেশ্বর পাল পেশায় ভাগচাষী। চাষবাস করে সামান্য যেটুকু রোজগার হয়, তা দিয়েই তিনি কোনওরকমে সংসার চালান। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরানো অবস্থা। এমনই এক পরিবারের ছেলে বুবুন বছর দুই আগে মন্তেশ্বর কলেজ থেকে ভূগোলে অনার্স নিয়ে পাস করে।তারপরেই আর্ট নিয়ে পড়াশুনার জন্য তিনি চলে যান দিল্লিতে। ভর্তি হন লখনৌ ইউনিভার্সিটিতে।

- Advertisement -

বর্তমানে তাঁর ফাইনাল ইয়ার চলছে। পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য বছর ২৩ বছর বয়সী বুবুন দিল্লীতে পার্টটাইম কাজেও যোগ দেয়। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এর অনলাইন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। ওই প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল- তিন মিনিটের মধ্যে ২.৯ বাই ১.৪ সেমির ক্ষুদ্র ক্যানভাসের উপর ক্ষুদ্রতম শিল্পকর্ম ফুটিয়ে তোলা।

ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এ নাম তুলল বাংলার যুবক| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

বুবুন জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি ব্যবহার করেন কৃত্রিম পাঁচটি নখ। তাঁর মাধ্যমেই নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তিনি ওই স্বল্প পরিসর ক্যানভাসের উপরেই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা দেশনায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু সহ মহাত্মা গান্ধী, ভগৎ সিং ও ভারতের পতাকা হাতে এক ব্যক্তির ছবি এঁকে ফেলেন। সেই আঁকায় তিনি ব্যবহার করেন পেনসিল ও জেল নেল পালিশ।

ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা তাঁর ওই ক্ষুদ্র শিল্প কর্ম জীবন্ত রূপ পায়। কয়েকদিন আগে বুবুন জানতে পারেন, তাঁর শিল্পকাজ স্বীকৃতি পেয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এ। শুক্রবার ডাকযোগে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের শংসাপত্র, মেডেল ও অন্যান্য পুরষ্কার তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। গ্রামের ছেলে বুবুন ইতিহাস তৈরি করতে পারায় উচ্ছ্বসিত সুটরা গ্রামের মানুষজন।

তাঁর মা দুর্গা পাল ও বাবা যজ্ঞেশ্বর পাল বলেন, ছোট থেকেই ছবি আঁকা সহ নানা শিল্পকর্মের বিষয়ে বুবুনের আগ্রহ তৈরি হয়। নিজের প্রচেষ্টাতেই বুবুন অঙ্কন শিল্পে নিজেকে পারদর্শী করে তোলে। তারই স্বীকৃতি পেয়েছে ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সন্দীপ রায় বলেন, বুবুনের শিল্পকাজে তৈরি হল এক নতুন ইতিহাস। কিছু করে দেখানোর তাগিদটাই ওকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে। ওর সাফল্যে আমরা গর্বিত।

উচ্ছ্বসিত বুবুন পাল এদিন বলেন, আমার শিল্পকাজ আমাকে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দেওয়ায় খুব ভালো লাগছে। আর্ট নিয়ে আরও অভিনব কিছু করার ইচ্ছা রয়েছে বলে বুবুন জানিয়েছেন।