ভার্চুয়াল মাধ্যম কাঁপাচ্ছেন জলপাইগুড়ির ছেলেমেয়েরা

229

ঋত্ত্বিজা বসু, জলপাইগুড়ি : করোনার দাপটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আঁকার স্কুল থেকে শুরু করে নাচের স্কুল, গানের স্কুল। বন্ধ বিভিন্ন অনুষ্ঠান। না হচ্ছে অনুশীলন, না পাওয়া যাচ্ছে দর্শকের সামনে নিজের প্রতিভা মেলে ধরার সুযোগ। তাতে নতুন প্রজন্মের কুছ পরোয়া নেহি। কারণ সানন্দা, অন্বেষা, কল্পকের মতো অনেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে শিল্পের চর্চা জারি রেখেছেন।

অধ্যেতা, সেমন্তী, সানন্দা, সায়নী স্কুলের নানা অনুষ্ঠানে বরাবর একসঙ্গে গান করে এসেছেন। এখন তাঁরা কলেজ পড়ুয়া। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে তাঁরা প্রথম ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তারপর থেকে নিয়মিত তাঁরা গানের আড্ডাতে বসেন। ফেসবুকে তাঁদের গানের ভিডিও সবার কাছেই খুব প্রশংসনীয়।

- Advertisement -

পিছিয়ে নেই চাকরিজীবীরাও। ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সুবাদে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত নিগম সরকার আবৃত্তি করার প্যাশনকে ফের ঘষেমেজে নিচ্ছেন। ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে নিয়মিত আবৃত্তি পোস্ট করছেন। তাঁর কথায়, পেজগুলোয় পোস্ট করার নিজস্ব সুবিধা রয়েছে। অল্প সময়ে বেশি সংখ্যক লোকের কাছে পৌঁছোনো যায় এবং ভালো-খারাপ উভয় ফিডব্যাক পাওয়া যায়।

ঝিনুক পণ্ডিত শহরের নানা নৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝিনুকের মনে হয়েছে, নৃত্যশৈলীকে সবার সামনে তুলে ধরতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মই যোগ্য বিকল্প। ঝিনুকের মতে, ভার্চুয়াল জগতে নিজের সৃজনশীলতা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করার সুযোগ অনেক বেশি। প্রতিযোগিতা বা অনুষ্ঠানে একটা নির্দিষ্ট থিমের ওপর নির্ভর করে বেশিরভাগ সময়।

প্রথমে ইনস্টাগ্রামে প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট থেকে অন্বেষা রায় গানের ভিডিও পোস্ট করতেন। পরবর্তীতে দর্শকদের উৎসাহে আলাদা করে আইজিটিভি ভিডিও পোস্ট করতে শুরু করেন। একইভাবে অর্থনীতির তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী করবী রায়ের ইনস্টা ফিডজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে যেন হাজারও স্বপ্ন। করবী এখন সমুদ্রের ঢেউ নিয়ে নানা ধরনের ছবি আঁকছেন। ডিজিটাল আর্টসে হাত পাকাতে ব্যস্ত তিনি।

কল্পক, জ্যোতির্ময়, আদিত্য, অভ্রনীল, অভিজিৎ, অমিত আর শুভজিৎ দীর্ঘদিনের বন্ধু। কল্পক সেন ছোট থেকেই নাটকের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানত তাঁর ইচ্ছে থেকেই শর্টফিল্মের ভাবনা তাঁদের। ইউটিউবে ওঁদের চ্যানেলের নাম সংকল্প। সেখানে বিভিন্ন লেখকের ছোটগল্প নিয়ে তাঁরা কাজ শুরু করেছেন। রুবেল বেনের ট্রাভেল ব্লগ হোক বা জেসু রায়চৌধুরীর মিউজিক ভিডিও কিংবা স্পন্দন নাগের কুকিং চ্যানেল- সব মিলে জলপাইগুড়ি শহরের নতুন প্রজন্ম নতুন পথে চলতে শুরু করেছে।