ভিনরাজ্যের দরজা বন্ধ, বিকল্প কর্মসংস্থান খুঁজছে পাহাড়

310

সানি সরকার, শিলিগুড়ি : এখন নয়, সময় এলে জানতে পারবে, যতবার ফোন করা হচ্ছে ততবারই ভাঙা রেকর্ডের মতো একই কথা শুনতে হচ্ছে তাকদার বিনিতা শর্মাকে। এখন যে তাঁদের প্রয়োজন নেই, তা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছেন সোনাদার মোহন প্রসাদ থেকে জোড়বাংলোর প্রতিমা গুরুং। করোনা পরিস্থিতিতে কাজহারা করে তুলেছে ওঁদের মতো পাহাড়ের হাজার হাজার যুবক-যুবতীকে। সংসারের জোয়াল টানতেন যাঁরা, তাঁরাই আজ বেকার। কবে সুদিন ফিরবে বুঝতে পারছেন না কেউই। খুব সহজে যে পরিস্থিতির বদল ঘটবে, তেমন আশা করছেন না কেউই। ফলে বিকল্প কর্মসংস্থানের পথ বেছে নিতে চাইছেন তাঁরা। কিন্তু কোন পথকে সুনির্দিষ্টভাবে বেছে নেওয়া উচিত, সেই ধ্যানধারণাও নেই। এমন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত পাহাড়। তাঁদের হয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিতে চাইছে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই)। সংগঠনের উত্তরবঙ্গের চেয়ারম্যান সঞ্জিত সাহা বলেন, কোভিড পরিস্থিতির জন্য পাহাড়ের প্রচুর ছেলেমেয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রথমদিকে তাঁদের ধারণা ছিল পুরোনো জায়গায় ফিরে যেতে পারবেন দুই-এক মাসের মধ্যে। কিন্তু পরিস্থিতি যে সহজ নয়, তাঁরা এখন বুঝতে পারছেন। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় থাকা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। রুরাল এন্টারপ্রেনার্স হাবের মাধ্যমে তাঁদের জন্য যাতে কর্মসংস্থানের নতুন পথ সৃষ্টি করা যায়, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমরা প্রস্তাব দেব।

একটা সময় দার্জিলিং পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, অনেক বছর ধরেই শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা কার্যত ভিনরাজ্যের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের সংখ্যাটা দুই থেকে আড়াই লক্ষের কম নয়। কিন্তু করোনার জন্য তাঁরা এখন জন্মভূমিতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চাইছেন। খোঁজ করছেন রোজগারের স্থায়ী ঠিকানা। কিন্তু কোন পথে এগোবেন, সামান্যতম ধ্যানধারণা নেই কারও কাছে। প্রশাসনিক সূত্রেই খবর, কাজের খোঁজে প্রায় প্রত্যেকদিন এমন ছেলেমেয়েরা ভিড় করছেন জেলা প্রশাসনের কার্যালয়গুলিতে। যেমন সোনাদার মোহন প্রসাদ গুজরাটের আহমেদাবাদে একটি তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রে কাজ করতেন। করোনার জন্য বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু ওই সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে এখন আর প্রয়োজন নেই। ফলে কী করবেন বুঝতে পারছেন না তিনি। মোহন বলেন, বুঝতে পারছি আমাদের সেখানে আর কোনও প্রয়োজন নেই। কিন্তু দার্জিলিংয়ে তো কাজ নেই। তাই খোঁজ করছি উত্তরবঙ্গের কোথাও যদি তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রে কাজ জোটাতে পারি। তাঁর সঙ্গে একই সংস্থায় কাজ করতেন সুকনার যতীন সুনদাস। তিনি বলেন, এখানে কাজের সুযোগ তৈরি হলে আমরা আর বাইরে যাব না। পাহাড় নির্ভরশীল পর্যটকদের ওপর। পাহাড়জুড়ে রয়েছে প্রচুর হোটেল, রেস্তোরাঁ। ফলে ভবিষ্যতের লক্ষ্যে টিস্যু পেপার তৈরি করতে চান তাকদার বিনিতা শর্মা। তিনি বলেন, ঠিক করেছি সরকারি সাহায্য পেলে হোমস্টের পাশাপাশি টিস্যু পেপারের ব্যবসা করার। হার্বাল সাবান তৈরির কথা ভাবছেন প্রতিমা গুরুং, জীবন রাইদের মতো অনেকেই। তবে প্রত্যেকেই তাকিয়ে রয়েছেন সরকারি সাহায্যের জন্য। সিআইআই সূত্রে খবর, পাহাড়ের জন্য ফুলঝাড়ু, অ্যাগ্রো বেসড প্রোডাক্ট, হার্বাল প্রোডাক্টের সম্ভাবনা নিয়ে একটি খসড়া রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। যা মুখ্যমন্ত্রীর চলতি মাসের উত্তরবঙ্গ সফরকালে তুলে দেওয়া হবে।

- Advertisement -