অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ভূতুড়ে টাকা, জানে না প্রশাসন

1067

দেওয়ানহাট : কথায় আছে, লাগে টাকা, দেবে গৌরী সেন। কিন্তু এ টাকা গৌরী সেন দিচ্ছে, নাকি অন্য কেউ তা অবশ্য কেউ জানে না। কারও অ্যাকাউন্টে পাঁচ হাজার তো আবার কারও অ্যাকাউন্টে লাখের বেশি, এভাবেই টাকা ঢুকছে মাসখানেক ধরে। অনেকে আবার তা চটপট তুলেও নিচ্ছেন। রবিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে কোচবিহার-১ ব্লকের পুঁটিমারি ফুলেশ্বরী এলাকার শালবাড়ি গ্রামে। যদিও ভতুড়ে এই টাকা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন সবাই। পাছে টাকা ফেরত দিতে হয়, এই ভয়ে এখন সিঁটিয়ে অনেকেই। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য ঘটনার কথা অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন। কোচবিহার-১এর বিডিও গঙ্গা ছেত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমার কাছে তথ্য নেই। তবে জিরো ব্যালেন্সের অ্যাকউন্টে এত টাকা ঢোকা সম্ভব নয়। আমি বিষয়টি দ্রুত খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।

মাসকয়েক আগে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মীরা এলাকায় এসে দেড় শতাধিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট খুলে দেন। জিরো ব্যালেন্সের সেই অ্যাকাউন্টগুলিতেই দেদারে টাকা ঢুকছে। এঁদের মধ্যে অনেকেই তড়িঘড়ি গ্রাহক সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে টাকা তুলে নিয়েছেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সামনে কেউ মুখ খুলছেন না। স্থানীয় একটি গ্রাহক সেবাকেন্দ্র সূত্রে খবর, এলাকার মহেশ্বরচন্দ্র রায়ের অ্যাকাউন্টে মার্চ মাস থেকে দফায় দফায় ৮০ হাজার ১৫৩ টাকা, ৮২ হাজার ১১৬ টাকা ও ২ হাজার ৫০০ টাকা ঢুকেছে। এরমধ্যে সিংহভাগ টাকা ইতিমধ্যে তোলা হয়েছে। তবে মহেশ্বরচন্দ্র রায় ২ হাজার ৮৩০ টাকা বাদে বাকি টাকা তোলেননি বলে গ্রাহক সেবাকেন্দ্রে দাবি করেছেন। এলাকার পূর্ণিমা রায়ের অ্যাকাউন্টে দুই দফায় ৮০ হাজার ও ৭৩ হাজার টাকা জমা হয়েছে। এদিন তিনি ১০ হাজার টাকা তোলেন। সুমিত্রা রায় নামে এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ঢুকেছে এবং সেই টাকা ইতিমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। শুধু এঁরাই নন, এলাকার প্রায় ৪০ জনের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার বিষয়টি ইতিমধ্যে সকলের মুখে মুখে ঘুরছে। বাকি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন গ্রাহক সেবাকেন্দ্রের এক কর্মী। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য দিলীপকুমার রায় বলেন, এলাকার বেশ কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে বিপুল টাকা ঢুকেছে। কোথা থেকে কীভাবে এই টাকা ঢুকল তা বোঝা যাচ্ছে না। প্রশাসন এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উন্মোচন করুক।

- Advertisement -