করোনার ভয়ে ছত্রাকের খপ্পরে, জিঙ্ক ট্যাবলেট ও ভাপ নেওয়া থেকে বিপদ

248

রণজিৎ ঘোষ শিলিগুড়ি : চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই মুঠো মুঠো জিঙ্ক ট্যাবলেট খাচ্ছেন? তাহলে এখনই সাবধান হয়ে যান। অজান্তেই আপনার শরীরে বাসা বাঁধতে পারে মিউকরমাইকোসিসের মতো ছত্রাক। শুধু তাই নয়, করোনার হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন বাড়িতে গরম ভাপ বা স্টিম নিচ্ছেন? ছত্রাক সংক্রমণের ক্ষেত্রে সেটাও ভয়ংকর হতে পারে।

করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করতে গিয়ে ছত্রাকের সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ছে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাঃ অজয় চক্রবর্তী বলেন, জিঙ্কের ব্যবহার কোন কোন ক্ষেত্রে করা যাবে, কতদিন ধরে এই ওষুধ দেওয়া যাবে সে ব্যাপারে নির্দেশিকা দেওয়া রয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া কোনওভাবেই শুধু জিঙ্ক কেন কোনও ওষুধই খাওয়া উচিত নয়।

- Advertisement -

করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই মানুষ রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে ওষুধের দোকান থেকে মুঠো মুঠো জিঙ্ক, মাল্টিভিটামিন, ভিটামিন সি, নানা অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন। হয়তো কোনও একজন করোনা সংক্রামিতকে কোনও চিকিৎসক কোনও একটি ওষুধ প্রেসক্রাইব করেছেন। সেই প্রেসক্রিপশন দেখেই বহু মানুষ ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। গত বছরের এপ্রিল, মে মাস থেকে শিলিগুড়িতে মাল্টিভিটামিন, ভিটামিন সি, জিঙ্ক, অ্যাজিথ্রোমাইসিনের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এটাই সমস্যার কারণ হচ্ছে। আসলে আমাদের শরীরে এত এত ভিটামিন, জিঙ্কের দরকার হয় না। মানুষ যেভাবে মুড়িমুড়কির মতো এই ওষুধগুলো খাচ্ছেন তাতে রোগমুক্তির চেয়ে শরীরে রোগ বাসা বাঁধছে বেশি। শরীরের অনেক ক্ষতি হচ্ছে, যেগুলির মাধ্যমে  দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা ডেকে আনছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক ডাঃ অরুণাভ সরকার বলেন, জিঙ্ক আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত হয়ে গেলে তা ভয়ংকর হতে পারে। বিশেষ করে মিউকরমাইকোসিস, অ্যাসপারজিওলাস সহ অন্যান্য ছত্রাক শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। এখনও পর্যন্ত যাঁরাই এই ছত্রাকের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকেই জিঙ্ক, অ্যান্টিবায়োটিক নিয়েছেন। মনে রাখতে হবে, ছত্রাক বংশবিস্তার সহ বেঁচে থাকার জন্য জিঙ্কের ওপর ভরসা করে। শরীরে ছত্রাকের বেঁচে থাকার জন্য জিঙ্ক লাভদায়ক। কাজেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জিঙ্ক নেওয়া উচিত না।

শিলিগুড়ির বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শেখর চক্রবর্তী বলেন, জিঙ্ক মাত্রাতিরিক্ত খেলে ত্বক এবং স্নায়ুর অসুখ হয়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মিউকর- এর বৃদ্ধিতে জিঙ্ক সাহায্য করছে। তবে এখনও এই গবেষণা পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। আমরা রোগীকে দেখার পরে প্রয়োজনের ভিত্তিতেই জিঙ্ক প্রেসক্রিপশনে লিখে থাকি। কিন্তু ইদানীং যেভাবে অনেকে মুড়িমুড়কির মতো জিঙ্ক নিচ্ছেন তাতে হিতে বিপরীত হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাঃ রাধেশ্যাম মাহাতো বলেন, করোনা থেকে বাঁচতে সবাই বাড়িতে যেভাবে গরম জলের ভাপ নিচ্ছেন (স্টিম), সেটাও ছত্রাকের সংক্রমণ ডেকে আনছে। আমাদের নাকে সিলিয়া থাকে। এই সিলিয়া শরীরের অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলিকে আটকে বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে গরম জলের ভাপ নিলে ধীরে ধীরে সিলিয়া খারাপ হয়ে যায়। সিলিয়ার জায়গায় ঘা হয়ে আলসার পর্যন্ত হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে ভালো, মন্দ যে কোনও কিছু সরাসরি নাক দিয়ে শরীরে ঢুকে পড়তে পারে। তাই ভাপ নিলেও তা খুবই অল্প সময়ে জন্য নিন।